ধানমন্ডি’র বেঙ্গল উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত উত্সবে হাজারো মানুষের ভিড়

0

ঢাকার ধানমন্ডিতে আয়োজিত উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় ৫ দিন ব্যাপী শাস্ত্রীয় সঙ্গীত আসর ‘বেঙ্গল উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত উৎসব’-এর শুভ উদ্বোধন হয়েছে গতকাল ২৬ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যায়। ঢাকার ধানমন্ডির আবাহনী মাঠে হচ্ছে এ বারের আসর। বিশ্ববিখ্যাত সঙ্গীত ব্যক্তিত্বরা এই উত্সবে হাজির হয়েছেন। তাদেঁর সুর ও সঙ্গীতকে তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করতে তাই শীতকেও উপেক্ষা করে হাজার শ্রোতায় ভরে উঠেছে আবাহনী মাঠ। আয়োজকরা আশাবাদী, গত পাঁচ বছরের ভেন্যু আর্মি স্টেডিয়ামের চেয়েও সফল আয়োজন হয়েছে এ বার।

এ বারের আয়োজন পাঁচ রাতের। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় ১৫০ জন শিল্পী অংশ নিয়েছেন এই উৎসবে। উদ্বোধনী পর্বে ড. এল সুব্রামানিয়াম বেহালায় আভোগী রাগ পরিবেশন করেন। তাঁর সঙ্গে মৃদঙ্গে সঙ্গত করেন শ্রী রামামূর্তি ধুলিপালা, তবলায় পণ্ডিত তন্ময় বোস এবং মোরসিং-এ ছিলেন সত্য সাই ঘণ্টশালা।

১৩০ বাই ৫০ ফুটের বিশাল মঞ্চে প্রথম রাতে দর্শক আরও বিমোহিত হয়েছেন সূরের মূর্ছনায়। ড. এল সুব্রামানিয়ামের পর অর্কেস্ট্রার আয়োজন নিয়ে আসেন আস্তানা সিম্ফনি ফিলহারমোনিক। তারা সিলেস কাজগালিবের সিম্ফোনির কিছুটা পরিবেশনের পর বিশ্বখ্যাত চাইকভস্কির ‘সোয়ান লেক’ শুরু করেন।  মাঠভর্তি দর্শক তখন সেই সুরের মূর্ছনায় ভেসে। অর্কেস্ট্রার পরিচালনায় ছিলেন বেরিক বাত্যরখান।

আবাসিক এলাকা ধানমন্ডি। আয়োজকরা সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই ভেন্যু পরিকল্পনা করেছেন। দুই স্তরের দেয়াল তৈরি করা হয়েছে। শব্দদূষণ যেন না ঘটে তার জন্য সুদূর জার্মানি থেকে সাউন্ড সফটওয়্যার নিয়ে আসা হয়েছে। বরারের মতোই থাকছে বিশাল পরিসরের ফুড কোর্ট। তিনটি প্রাথমিক প্রবেশ পথে সারি ধরে প্রবেশ করার জন্য থাকবে আরও ১২টি পথ। সব মিলিয়ে স্বস্তিদায়ক উৎসবের জন্য প্রস্তুত ধানমন্ডি। গত ৫ বছরে এই উত্সব হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের সঙ্গীতপ্রেমীদের প্রধান মিলনমেলা।

গত ৫ বছর ধরে আয়োজিত উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় পরিধির এই আয়োজন এ বছর উৎসর্গ করা হয়েছে বাংলা ভাষার বরেণ্য শিক্ষাবিদ এমিরেটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানকে।
ঢাকাবাসীরা বছরভর অপেক্ষা করে থাকেন এই উত্সবের জন্য। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটল গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায়।

(তথ্যসুত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা)

 

 

Share.

Leave A Reply

ninety three − = eighty five