দ্যা ডেভিলস অ্যাডভোকেট: শয়তানের ফাঁদে পা দিবেন কি?

0

সাদমান শাওন- 

সিনেমার নাম দ্যা ডেভিলস অ্যাডভোকেট। ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৯৭ সালে। ক্রাইম, থ্রিলার সিনেমা অনেকেই দেখতে ভালোবাসেন। তবে, এটি একটু ভিন্ন ধারার ক্রাইম, থ্রিলার, চিন্তার উদ্দীপকধর্মী সিনেমা। শয়তানের ফাঁদে পা দিবেন কি? নানা চিন্তায় চিন্তিত করে তুলবে সিনেমাটি। শক্তিমান অভিনেতা ‘আল প্যাচিনো’ এবং ‘কিয়ানু রিভস’ এর অসাধারণ যেমন অভিনয় তেমনি সিনেমার কাহিনীও অসাধারণ।

সিনেমার গল্পে আসার আগে কিছু কথা-

সাফল্য বেশ আনন্দের বিষয় যে কোন মানুষের জন্য। কে না চায় সাফল্য। বর্তমান দুনিয়ার হাল চাল, সাফল্লেই মধ্যেই মানুষ ভীর করছে। বেশ কম্পিটিশন মানুষের মধ্যে আজ কাল। কেউ কেউ সৎ ব্যক্তি নিজ সততাও বিসর্জন দিচ্ছে এই সাফল্যের জন্য। অতিরিক্ত সাফল্যের ফলে কেউ কেউ অহংকারী হয়ে উঠছে। বুঝে বা অগোচরেই শয়তান ভীর করে, চেপে বসে সেই মানুষের ঘারে।

তেমনি এই সিনেমায় দেখা যায়-

কেভিন লোম্যাক্স (কিয়ানু রিভস) যিনি একজন আইনজীবী। তার অল্প জীবনে কোন মামলায় হারেন না। এটাই তার মূল উদ্দেশ্য। কোন কেসেই হারবেন না। আর মামলায় হারলে বাজে প্রভাব পরবে, তার কাছে কেউ কেস নিয়েও আসবে না । ক্লায়েন্টকে মুক্ত করবেন এটাই তার আসল কাজ। এমন ধারণা নিয়েই একদিন এক কেসের টিচারের পক্ষ হয়ে লড়ছিল।

অন্যদিকে বিপক্ষ দলের একটি মেয়ে আদালতে, সেই মেয়ের ভাষ্যমতে, মেয়েটি এ্যাবিউজড হয়েছে টিচার দ্বারা। আদালতে একের পর এক যুক্তি খণ্ডিত হতে থাকে পক্ষে, বিপক্ষে। ঘটনাক্রমে আদালতে লমেক্স আন্দাজ করে তিনি যেই টিচার এর পক্ষ নিয়ে লড়ছেন সেই টিচার সত্যি সত্যিই মেয়েটিকে সেক্সচুয়াল হ্যারাসমেন্ট করে। কোর্ট রুমে পনেরো মিনিতের বিরতি পরে আর তখনই রাগান্বিত হয় টিচার এর উপর এবং বলে আমি এই কেস লড়বো না বলে বাথরুমে মুখ ধূতে যায়। পরক্ষনেই আর এক জগতে প্রবেশ করে লোম্যাক্স (কিয়ানু রিভস)। শুরু হতে থাকে তার ব্যক্তিগত জীবনের কিছু বহমান ধারা।

এইখানে বলে রাখা ভাল, কিছু কিছু সিনেমার কিছু কিছু দৃশ্যের যুক্তি হয়ত আপনি পাবেন না কিন্তু কাহিনী কি সেটা বুঝে নিতে হবে আপনাকে। এই সিনেমাতেও কিছুটা দৃশ্য এমন। পরিচালক সেই ভাবেই খুব দক্ষতার সাথে দেখিয়েছেন। দেখিয়েছেন সিনেমার মাঝখান থেকেই লোম্যাক্স (কিয়ানু রিভস) এর ব্যক্তিগত জীবন। ঘটনাক্রমে লোম্যাক্স তার ওয়াইফকে নিয়ে বেশ সুখি জীবন পার করার সুযোগ পায়। সুযোগ পায় লাক্সারি জীবন, আকর্ষণীয় বেতন। উচ্চাকাঙ্ক্ষা পেয়ে বসে তাকে। দুনিয়ার আরাম আয়েশ তাকে প্রভাবিত করে। একের পর এক মামলায় যিনি জয়ী হন, তিনি তো এমন জীবনই আশা করেন।

কিন্তু মানুষ একটি বিষয় ভুলে যায় যে অতিরিক্ত কোন কিছুই আপনাকে ভাল কিছু প্রদান করবে না। অশান্তি ডেকে আনে। মানুষরূপে শয়তান টাকার লোভ দেখিয়ে হয়ত বলবে আসুন কাজ করুন, অর্থ উপার্জন করুন। বেশ সাদামাটা কথা বার্তা কিন্তু অতি লোভে একগাদা ব্রেইনওয়াশ চলতে থাকবে সিনেমায় শেষের দিকে। মানুষের বাস্তব জীবনের সাথে অসাধারণ মিল তুলে ধরেছেন পরিচালক।

সিনেমার শেষ কি হয়? লোম্যাক্স (কিয়ানু রিভস) কি সত্যি টিচার এর পক্ষ হয়ে লড়বেন? কেননা আদালতেই ঘটনাক্রমে বুঝতে পারেন যে টিচার সত্যিকার অর্থেই দায়ী। রয়েছে আরও নানা জটিলতা, নানা সমস্যা ঘটতে থাকে যা বুঝতে হলে সিনেমাটি দেখে ফেলতে হবে। কেননা আমার এই লেখার উদ্দেশ্য হচ্ছে সিনেমা দেখার আগ্রহ তৈরি করা। সিনেমাটোগ্রাফি ও অসাধারণ সেই সাথে গল্প ধরে রাখবে আপনাকে। কেননা জীবনের অনেক কিছুর সাথে মিল খুঁজে পাবেন।

এই সিনেমার প্রধান ডায়লগ হচ্ছে  “Vanity is definitely my favourite sin”। যা শয়তানের মুখেই শুনা যায় সবসময়। শয়তানের কাজই হচ্ছে খুব সাধারণভাবেই আপনাকে প্রভাবিত করবে চলার পথে কিন্তু আপনি কি সেই পথে চলবেন? চললেই কতটুকুই বা চলবেন। সামান্য ভুল করতে করতে অনেক বড় পাপ তৈরি হয়। হুশ থাকেনা মানুষের। আর তখনই পতন। কিন্তু এই পতন দূর করাও যায়। পৃথিবীর সব মানুষই তো আর এক না। কিন্তু সিনেমার  লোম্যাক্স (কিয়ানু রিভস) কী করে তার দেখতে সিনেমাটি দেখে ফেলুন। বিপদ থাকলে তার সমাধান থাকে। কিন্তু বেশি দেরি করলে কোন কোন সময় আর সমাধান থাকেনা।

সিনেমাঃ The Devil’s Advocate

গল্পঃ  Andrew Neiderman

পরিচালনাঃ  Taylor Hackford

অভিনয়ঃ Al Pacino, Keanu Reeves, Charlize Theron

আইএমডিবি রেটিং ঃ 7.5

সিনেমার টরেন্ট লিঙ্কঃ https://yts.gs/movies/the-devils-advocate-1997

Share.

Leave A Reply

fifty two − = forty seven