‘দুস্থ-দরিদ্রদের ক্ষেত্রে অনেক ডাক্তার ফি’টুকুও নেন না’

0

নতুনকিছু ডেস্ক।। 

স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের পাবলিক হেল্‌থ বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়টির অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি  ডা. শওকত আরা হায়দার। নানান গুণে গুণান্বিত মানুষটি একাধারে শিক্ষক, ডাক্তার ও বিভিন্ন সংগঠনের কর্ণধার। তিনি স্বাস্থ্যসেবার বর্তমান হালচালসহ নানাবিধ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলেছেন নতুনকিছু.কম প্রতিনিধি আমিনুল ইসলাম নাবিল এর সাথে।

নতুনকিছু.কম: শুভ অপরাহ্ন, কেমন আছেন?
ডা. শওকত আরা হায়দার: শুভ অপরাহ্ন, ভালো আছি।

নতুনকিছু.কম: শৈশব ও শিক্ষাজীবন নিয়ে জানতে চাই।
ডা. শওকত আরা হায়দার: আমার জন্ম ঢাকায়। তখন শহরটা অনেক প্রাণবন্ত ছিল। শৈশব কেটেছে হাসি-আনন্দে, আবাহনী-মোহামেডানের খেলা নিয়ে মেতে থাকতাম।মতিঝিল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক অতঃপর টিকাটুলিতে অবস্থিত সেন্ট্রাল উইমেন্স কলেজ হতে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করে পড়াশুনার তাগিদে নিজ শহর ছেড়ে পাড়ি জমাই মায়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে। সেখান হতেই পূর্ণ হয় ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন। অতঃপর স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য বিভাগ হতে মাস্টার্স অব পাবলিক হেলথ ডিগ্রী অর্জন করি। ২০১৪ সালে টিচিং রিসার্চের উপর USAID এর ফেলোশিপ করি।

নতুনকিছু.কম: কর্মজীবনের শুরু কোথা থেকে?
ডা. শওকত আরা হায়দার: ১৯৯২ সাল থেকে আজও কর্মরত আছি রাজধানীর শ্যামলিতে অবস্থিত শিশু হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগে। খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে আছি স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের পাবলিক হেল্‌থ বিভাগে। এছাড়াও আমি এখন গবেষণার কাজে যুক্ত আছি।

নতুনকিছু.কম: কর্মজীবনের পাশাপাশি আর কী কী করছেন?
ডা. শওকত আরা হায়দার: রঙ্গে ভরা বঙ্গ নামক সংগঠনের সহ-সভাপতি হিসেবে আছি। এছাড়াও সম্প্রতি নামের আগে যুক্ত হয়েছে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ অ্যালামনাই এসোসিয়েশন এর সভাপতির গুরু দায়িত্ব।

নতুনকিছু.কম: সভাপতি হওয়ার অনুভূতি কীভাবে প্রকাশ করবেন?
ডা. শওকত আরা হায়দার: নিঃসন্দেহে অসাধারণ। এতোসব তরুণদের মাঝে থেকে প্রাণ ফিরে পাই। আর অন্তরের একটা ভালোবাসার টান তো কাজ করেই। অ্যালামনাই বেশ দক্ষ আর প্রগতিশীল। অ্যালামনাই এসোসিয়েশন সুবা, ইউনিভার্সিটি আর অ্যালামনাইদের মধ্যে একটা সেতু বন্ধন। আশা রাখছি স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ দুর্বার গতিতে সামনের দিকে ছুটে চলবে।

নতুনকিছু.কম: বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবাকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
ডা. শওকত আরা হায়দার: মন্দ জিনিস চোখে পড়ে বেশি। অসংখ্য সফলতার মাঝেও আমরা শুধু গুটিকয়েক মন্দ জিনিসের জন্যেই বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবাকে বাঁকা চোখে দেখি। আসলে আমাদের সমস্যার মূল জায়গা হচ্ছে আমাদের স্বাস্থ্যসেবার সুষ্পষ্ট কোন নীতিমালা নেই। সর্বক্ষেত্রে সমন্বয় এর ঘাটতিও আছে কিছুটা। দুস্থ-দরিদ্রদের ক্ষেত্রে অনেক ডাক্তার নির্ধারিত ফি’টুকুও নেন না এমন উদাহরণও আছে।

নতুনকিছু.কম: স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি বলে মনে করেন?
ডা. শওকত আরা হায়দার: পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা ঢেলে সাজাতে হবে। বেসরকারি হাসপাতাল পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালেরও উন্নয়ন সাধন ও সর্বক্ষেত্রে সমন্বয় সাধন করতে হবে। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে আমাদের দেশের মানুষ চিকিৎসা করাতে আর দেশের বাহিরের হাসপাতালের উপর নির্ভরশীল হবে না।

নতুনকিছু.কম: তরুণ প্রজন্মের জন্য কী উপদেশ দিবেন?
ডা. শওকত আরা হায়দার: পড়াশুনার গভীরে যেতে হবে। শুধু অর্থ উপার্জন কখনই শিক্ষার মূল লক্ষ্য হতে পারে না। কোচিং নির্ভর পড়াশুনা, পুঁথিগতবিদ্যার মাঝে নিজেকে আবদ্ধ রাখা, এসব থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। মুখস্ত নয়, বুঝে পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। আমাদের দেশের তরুণরা অনেক মেধাবী। সঠিক ও সুষ্ঠু পথে জীবন ও বাস্তবমুখী শিক্ষায় তাদের শিক্ষিত করতে পারলে তারা সকলে ভালো ও দক্ষ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে।
নতুনকিছু.কম: আপনার স্বপ্ন নিয়ে পাঠকদের জানাতে চাই।

ডা. শওকত আরা হায়দার: গবেষণামূলক আরও কিছু কাজ করার ইচ্ছা আছে। মুক্তিযোদ্ধাদের স্বাস্থ্য নিয়ে আমার একটি গবেষণার কাজ চলছে। ভবিষ্যতে শিশু-কিশোরদের নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা আছে। শিক্ষকতা পেশাটাকেও ধরে রাখতে চাই সাধের জায়গায়। যতদিন বেঁচে আছি কাজের মাঝেই থাকতে চাই। সর্বোপরি সমাজের জন্য কিছু করে যেতে চাই।

নতুনকিছু.কম: আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
ডা. শওকত আরা হায়দার: আপনাকে ও নতুনকিছু.কমকেও ধন্যবাদ।

Share.

Leave A Reply

seventy five − = sixty eight