দিনাজপুর রামসাগর

0

মো. মাহবুব আলম

দিনাজপুর সদর থেকে ৮ কি:মি: এবং শহর হতে ৫ মাইল দক্ষিনে রামসাগর দিঘীটি অবস্থিত।যখন পলাশী যুদ্ধ হয়েছিল, তার প্রাক্কালে (১৭৫০-১৭৫৫) খ্রীষ্টাব্দে প্রখ্যাত রাজা রামনাথ এই রামসাগর দীঘিটি খনন কাজ সম্পন্ন করেন এবং তার নামেই রামসাগর নামকরণ করা হয়।

রামসাগর কথাটি কিভাবে এলো, সাগর কথাটি মনে হলে মনে হয় এ আবার কোন সাগর! আসলে রামসাগর শব্দটি এসছে রাজা রামনাথ রাজ্য চলাকালে সে সময় মানুষের পানির অভাব মেটানোর জন্য এই দিঘী খননের কাজ শুরু করা হয়েছিল।রাজা রামনাথ দীর্ঘদিন ধরে এই রামসাগর খনন করলো ঠিকই, কিন্তু এই দিঘীর পানি উঠছিল না। দিঘীতে পানি না উঠার কারণে রাজ্যের সবাই সমালোচনা করতে শুরু করেছিল। কোন কিছুতেই কিছু কেরতে পাড়ছিল না। দীঘিতে নানা ধরণের পূজা অর্চনা শুরু করতে শুরু করলো, পানি যাতে করে উঠে। কিন্তু উঠছিল না, হঠাৎ একদিন রাজা স্বপ্ন দেখেন, যদি এই দীঘির মাঝে একটি ছোট মন্দির করা হয়ে তবে পুকুরে পানি উঠবে, স্বপ্নমতে রাজা একটি মন্দির তৈরি করল এবং সবাই পূজা করা আরাম্ব করল যার ফলে, পুকুরে পানি আসতে শুরু হলো। কথিত আছে রাজা রামনাথ একদিন পানিতে ডুবে মারা যায়। তারপর তার স্মৃতিস্বরুপ এই দীঘির বা স্থানের নাম করন করা হয় রামসাগর।

রামসাগরের সৌন্দর্য আসলে বলে বোঝানো যাবে না। যদি কেউ এর প্রকৃত সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান, তবে ঘুরে আসতে পারেন এই দর্শনীয় স্থানটিতে। এই জায়গায় আছে পুকুরের চার পাশে ছোট ছোট টিলা জুড়ে আছে বাহারী সব গাছপালা, এই দিঘীর ‍দিকে দৃষ্টি রাখলে মনে হয় বিশাল সমুদ্র, যার পানি স্থির ও স্বচ্ছ মনোরম। এই দিঘী দেখলে মোনজুড়িয়ে যায়। দিঘীটি চারোদিকে উচু করে ইট  বিছানো, রাস্তা দিযে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক এই জাতীয় উদ্যান দেখতে আসে। দিঘীতে প্রচুর শাপলা ফুল রামসাগরকে দিয়েছে নান্দনিকতার ছোঁয়া। যা সহজেই আপনার মন কাড়তে সক্ষম হবে। এখানে আছে নানা প্রজাতির পাখি। আর পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয় রামসাগরের চারপাশের পরিবেশ।

দিঘীর উত্তর পার্শে লাল ইটের একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থাপনা দেখা যায়।  স্থানীয়নারা অনেকেই এই লাল ইটের স্থাপনাটিকে মুন্দির বলে থাকেন। যে কোন ছুটিতে আপনারা দিনাজপুরের রামসাগরের সৌন্দর্য্যেকে দেখে আসতে পারেন।দিনাজপুর শহরে থাকার জন্য বাংলাদেশ পর্যটন কপোর্রেশন এর মোটেলসহ অনেকগুলো ব্যক্তি মালিকানাধীন হোটেল রয়েছে। আপনি চাইলে এখানে থাকতে পারেন। এছাড়া আর ও অনেক ধরণের হোটেল আছে থাকার মত; যেমন  ডায়মন্ড, পূর্নভবা, হোটেল আল রশিদ উল্লেখযোগ্য। দিনাজপুরের  বিখ্যাত এবং খুব জনপ্রিয় খাবার আছে। যা অত্যন্ত্ জনপ্রিয়; যেমন- কাটারির চাল, লিচু ,চিড়া ,পাপড়, মিষ্টি, খেতে কিন্তু  ভুলবেন না।

লেখক- এক্সিকিউটিভ, জার্নালিজম, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ
স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ।

Share.

Leave A Reply

three + 5 =