দিনাজপুর রাজবাড়ী

0

মো: মাহবুব আলম

দিনাজপুর শহর থেকে চার কিলোমিটার উত্তর পূর্বে অবস্থিত দিনাজপুর রাজবাড়ী। রাজবাড়ীটিতে মূলত রাজ বংশের গোড়াপত্তন হয়েছিল সম্রাট আকবর এর আমল থেকে। ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দে সম্রাট আকবর সমগ্র সাম্রাজ্যকে পনেরটি ভাগে বিভক্ত করেন এবং এখানে একজন সুবেদার নিয়োগ করেন যার নাম শেলী। পরে আবার শোবা বাংলাকে ২৪টি সরকারে বিভক্ত করে। এর মধ্যে ৬টি সরকারের কিছু অংশ দিনাজপুর জেলা অন্তর্ভুক্ত ছিল। রাজবাড়ী জমিদারের অংশে ছিল আর জমিদাররা ছিল রাজা গণেশের বংশধর। দিনাজপুরে ১২ জন রাজা ছিলেন যারা প্রায় চারশত বছর ধরে এখানে রাজত্ব করেছেন। এই রাজারা ছিলেন রাজা গণেশের বংশধর। রাজাদের নাম ছিল রাজা শুভ-দেব রায়, রাজা রাম দেব রায়, রাজা জয়দেব রায়, রাজা প্রাণ নাথ রায়, মহারাজা রামনাথ রায়, রাজা কৃষ্ণ নাথ রায়, রাজা বৈধ্য নাথ রায়, মহারাজা রাধানাথ রায়, মহারাজা গোবিন্দ নাথ রায়, রাজা তারক নাথ রায়, মহারাজা গিরিজা-নাথ রায় ও সর্বশেষ মহারাজা ছিলেন জগদীশ নাথ রায়।

১৯৪৭ সালে দেশ বিভক্তি হবার পর অবসান হয় রাজ শাসন। রাজ পরিবার শেষ নৃপতি মহারাজা গিরিজা নাথ। জমিদার প্রথা বিলুপ্তি আইন জারীর পর সকল প্রকার রাজ সম্পত্তি সরকারী নিয়ন্ত্রণে আসে, ১৯৫৮ সালে স্বৈরাচারী জেনারেল আইয়ুব খানের সামরিক শাসনামলে রাজবাড়ীর যাবতীয় মূল্যবান অস্থাবর সম্পত্তি, রাজ পরিবারের ব্যবহৃত গহনা অলংকার, মোটরযান এবং রূপার তৈরি অস্ত্র শস্ত্র সৌখিন সামগ্রী প্রকাশ্যে নিলাম ডাকে বিক্রির পরেই অরক্ষিত হয়ে পড়ে।

তৎকালীন দিনাজপুর রাজবাড়ীর সৌন্দর্য ছিল অতুলনীয়। মূল রাজবাড়ীটি ছিল ষোল একর জমির উপর নির্মিত। এই বাড়ীতে ছিল তিনটি বড় বড় পুকুর ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত। মাছ চাষ-প্রজাদের ব্যবহার ও রাজ পরিবারের জন্য খনন করেন পদ্মা দীঘি, হরি সাগর, মাতা সাগর, সুখ সাগর, আনন্দ সাগর ও প্রাণ সাগর। দিনাজপুর এর রামসাগর তারর্কীতি।

দিনাজপুরের রাজবাড়ী শহর থেকে আট কি:মি: দক্ষিণে আউলিয়াপুর গ্রামের আরও ৪.৩৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে এটা বিস্তৃত। এখানে আরও একটি পোড়ামাটির ফলক খচিত কান্তজী মন্দির আছে।

দিনাজপুরের রাজবাড়ী সবমিলিয়ে ১৬৬ একর জমির উপর অবস্থিত। রাজবাড়ীর মুল মহল গুলো বিধ্বস্ত হয়ে গেছে আছে শুধু ধ্বংসাবশেষ। রাজবাড়ী এখন দেখলে মনে হয় ভীতিময় পরিবেশ যা কিনা হানাবাড়ীর মতো মনে হয় শুধু মাত্র সংরক্ষণের অভাবে।

দিনাজপুরের সাবেক জেলা প্রশাসক মীর খাইরুল আলমের সাথে আমাদের সময় কথা বলেন, তিনি রাজবাড়ী রক্ষার জন্য অচীরেই একটি প্রস্তাবনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পেশ করবেন বলে জানিয়েছিল কিন্তু আজ পর্যন্ত এর কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

দিনাজপুর এলাকাবাসীর দাবী দিনাজপুর রাজবাড়ীকে জবর দখলকারীর হাত থেকে পুন:উদ্ধারের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং যা অবশিষ্ট আছে রাজবাড়ী তা যথার্থ সংরক্ষণ ও যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

লেখক- কর্মকর্তা, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

Share.

Leave A Reply

seven × = twenty eight