ঢেঁড়সের যত গুনাগুণ

0

ঢেঁড়স শুধু খেতেই সুস্বাদু নয়, গুণেও অনন্য।এর এমন কিছু স্বাস্থ্যগুণ রয়েছে যা শরীরকে অনেক রোগ থেকে রক্ষা করে৷

আমাদের দেশের বর্ষাকালীন সবজির মধ্যে ঢেঁড়স একটি উল্লেখযোগ্য সবজি।ঢেঁড়সে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, লোহা ও ভিটামিন এ, বি, সি। এছাড়াও এতে রয়েছে ক্যারোটিন, ফলিক এসিড, থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, নিয়াসিন, অক্সালিক এসিড এবং অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড। ঢেঁড়সে থাকা ফাইবার,ভিটামিন এ, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, সেই সঙ্গে শ্বাসকষ্ট প্রতিরোধ করে। ঢেঁড়সের রিবোফ্লাভিনের পরিমাণ বেগুন, মূলা, টমেটো ও শিমের চেয়েও বেশি। তাই স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এটি খাওয়া ভালো।।

এছাড়া ঢেঁড়সের অন্য যেসব গুণ রয়েছে-

১. ঢেঁড়সে থাকা সলিউবল ফাইবার পেকটিন রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। ঢেঁড়সে ইনসুলিনের মতো উপাদান রয়েছে যা রক্তের সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। এতে করে ডায়বেটিসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে যাকে। তাই ডায়াবেটিসের রোগীদের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন। ঢেঁড়সে রয়েছে স্যলুবল ফাইবার যা দেহের কোলেস্টরল কমাতে বিশেষভাবে কার্যকরী। এতে করে কার্ডিওভ্যস্কুলার সমস্যা ও হৃদপিণ্ডের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

২. ঢেঁড়স গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের মস্তিষ্ক তৈরিতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে গর্ভপাত হওয়া প্রতিরোধ করে। মাতৃত্বকালীন নানা ধরনের সমস্যা সমাধানে ঢেঁড়স কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। যেমন গর্ভকালীন সময়ে ফেটুসের নিউরাল টিউব ডিফেক্ট দূর করতে ঢেঁড়স কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

৩. ত্বকের বিষাক্ত পদার্থ দূর করে শরীরের টিস্যু পুনর্গঠনে ও ব্রণ দূর করতে সাহায্য করে ঢেঁড়স। দেহে লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদনে সহায়তা করে ঢেঁড়স। এতে করে অ্যানিমিয়া অর্থাৎ রক্তস্বল্পতা দূর করে। নিয়মিত ঢেঁড়স খেলে অ্যানিমিয়া প্রতিরোধ করা যেতে পারে।

৪. ঢেঁড়সে ভিটামিন সি, অ্যান্টি ইনফ্লামেটোরি এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান থাকায় এটি অ্যাজমা প্রতিরোধে বেশ কার্যকরী। ঢেঁড়সের রয়েছে ভিটামিন সি ও এ উপাদান। এগুলো অ্যাজমার প্রকোপ কমায় এবং অ্যাজমা সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। যাদের অ্যাজমা সমস্যা রয়েছে তারা বেশি বেশি ঢেঁড়স খেলে বেশ ভালো ফল পেতে পারেন। ঢেঁড়সের ভিটামিন এ এবং সি দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, এতে করে নানা ধরণের ছোটোখাটো ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগের হাত থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা যায়।

৫. ঢেঁড়স কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। এতে থাকা উচ্চমাত্রার অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ক্ষতিকর ফ্রি রেডিকেলসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ তৈরি করে।ঢেঁড়সের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট মানবদেহের কোষের মিউটেশন প্রতিরোধ করে। সেই সাথে ক্ষতিকর ফ্রি-র্যা ডিকেল দূর করে থাকে। এতে করে দেহে ক্যান্সারের কোষ জন্মাতে পারে না। নিয়মিত ঢেঁড়স খাওয়ার অভ্যাস আপনাকে ক্যান্সার থেকে রক্ষা করতে পারে।

৬. ঢেঁড়সে থাকা ভিটামিন সি , অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং বিভিন্ন খনিজ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

৭. ঢেঁড়সে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে যা হজমে সহায়তা করে। ঢেঁড়সে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, লুটেইন ও বিটা ক্যারোটিন। যা আমাদের দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে এবং দৃষ্টিশক্তি সংক্রান্ত সমস্যা থেকে রক্ষা করে।

৮. ঢেঁড়সে থাকা বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন এ, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, লিউটিন চোখের গ্লুকোমা, ছানি প্রতিরোধে সাহায্য করে।

৯.বৃদ্ধ বয়সী মানুষের একটি সাধারণ রোগ হলো হাড়ের ক্ষয় রোগ। হাড়ের ক্ষয়ের কারণে শরীরে বিভিন্ন জয়েন্টে ব্যথা অনুভব হয়। বিশেষ করে হাটুতে ব্যথা অনুভব করার কারণে হাটা-চলা করতে বিশেষ সমস্যা হয়। এই সমস্যা প্রতিরোধে আপনার খাদ্য তালিকায় ঢেঁড়স রাখতে পারেন। ঢেঁড়সে বিদ্যমান ফোলায়েট উপাদান হাড়ের গঠন মজবুত করে এবং হাড়ের ক্ষয় প্রতিরোধে সহায়তা করে।

১০.ঢেঁড়সের ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে বিশেষভাবে কার্যকরী। আপনারা যারা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভুগছেন তারা তাদের খাদ্য তালিকায় ঢেঁড়স রাখতে পারেন।

 

Share.

Leave A Reply

sixty nine − = sixty five