ঢাকা শহরের অন্য এক রূপ

0

সুমাইয়া জামান

জাতি হিসেবে আমরা এখন বেশ দ্রুত উন্নতির পথে এগিয়ে চলেছি। আর এই উন্নতির যে প্রাণকেন্দ্র সেটি হলো আমাদের রাজধানী ঢাকা। তাই ঢাকা শহরকে যদি বর্ননা করতে বলা হয়, আমাদের চোখের  সামনে প্রথমেই ভেসে উঠবে বড় বড় দালান, প্রশস্ত রাস্তা, হাতির ঝিল বা ধানমণ্ডি লেক। কিন্তু এই ধানমন্ডী লেকের সামনে গেলেই চোখে পড়ে ঢাকার অন্য একটি রূপ।

জনবহুল এই শহরে একসাথে প্রায় দুই কোটি লোক বসবাস করছে। আর যেখানে লোকসংখ্যা বেশি , সেখানে বর্জ বা আবর্জনাও বেশি হয়ে থাকে। আর তারই শিকার ঢাকা শহর।

ধানমন্ডি লেকের সামনে একটি ময়লা নিষ্কাশন কারখানা রয়েছে। ধানমন্ডির আসেপাশের প্রায় সকল আবর্জনা নিষ্কাশনের ব্যবস্থা এখানে করা হয়। ফলে এখানে আসা আবর্জনার পরিমাণও অনেক বেশি। মাত্র চার থেকে পাঁচ মাস আগেও এই জায়গাটি ছিল মানুষের চলাচলের সম্পুর্ন অযোগ্য। চারদিকে নংরা ময়লা, দুর্গন্ধযুক্ত বাতাস, ময়লার স্তুপের ভেতর কাক আর কুকুরের কাড়াকাড়ি। এই ছিল ধানমন্ডি লেক এর সামনের দৃশ্য।

তাহলে এখন কি লেকের সামনের দৃশ্য পরিচ্ছন্ন ? না, মোটেই না। তবে এখন আর আগের মতো চলাচলের জন্য অযোগ্য নয় জায়গাটি। উন্নতির মধ্যে আবর্জনা গুলো রাখার জন্য পাত্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে মাত্র।সেখানে গেলে এখনো দেখতে পাওয়া যায় কাক ও কুকুরের কড়াকাড়ি, পাওয়া যায় আবর্জনা  পচার দুর্গন্ধ।

ময়লা নিষ্কাশন কর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এখানে প্রায়ই সাংবাদিকেরা আসেন, অবস্থা পরিবর্তনের আশ্বাস দেন, ইন্টার্ভিউ নেন, ছবি তোলেন। অবশেষে ময়লা ফেক্টরি যেমন আছে, তেমনই থাকে। কোনো পরবর্তনের ছোয়া এখানে লাগে না।

শুধুমাত্র ধানমন্ডি লেকেই নয় হাতির ঝিলের চারপাশের চিত্রও অনেকটা এমনই। হাতির ঝিলের চারপাশে যেমন ছড়িয়ে ছি

এর পর যেকোনো সাধারণ মানুষ প্রথমেই সরকারের দায়িত্বহীনতাকে তুলে ধরবেন। সরকার কেনো এর কোনো ব্যবস্থা নেন নি সেই বিষয়ে প্রশ্ন তুলবেন। কিন্তু একটু ভেবে দেখুন তো আমরা নিজেরাই কি যথেষ্ট দায়িত্বশীল ?

এই যে এত প্রচুর পরিমাণ ময়লা-আবর্জনা  জমা হচ্ছে প্রতিদিন। এগুলো কিন্তু আমাদের মতো সাধারণ মানুষেরই বর্জিত আবর্জনা। যেগুলো একটু একটু করে জমা হয়ে নিষ্কাশনের জন্য আসছে এখানে। আমরা যদি চাই আবর্জনার পরিমাণ কি কমাতে পারি না?/

প্রতি দিন আমরা যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলছি। অথচ আমরা যদি একটি নির্দিষ্ট স্থানে আবর্জনা ফেলি, তাহলে কিন্তু এত ময়লা ছড়িয়ে থাকে না। ময়লা কর্মীরা তো তাদের মতো করে কাজ করছে। কিন্তু এত আবর্জনা রাখার স্থান সংকুলান হওয়া মুশকিল।

শুধু ধানমন্ডি নয়, যদি এমন আরও কয়েকটি স্থানে ময়লা নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকে, তাহলে কিন্তু একটি ময়লার ফেক্টরি উপর এত চাপ পড়বে না। একটি ময়লা ফেক্টরির চারপাশে এত ময়লা  জমে থাকবে না।

যেখানে সেখানে ময়লা ফেলা থেকে যদি আমরা বিরত থেকে একটি নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে পারি, অপচয় রোধ করে আবর্জনার পরিমাণ কমাতে পারি, সচেতন থাকতে পারি সবসময় এবং সবাই এক হয়ে কাজ করতে পারি,তাহলে ঢাকাকে এক অন্য রূপ দেওয়া সম্ভব।

সচেতন শুধু সরকার হলেই বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব না। তার জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে এক সাথে। দেশটা আমাদের সবার। তাই এই দেশের অগ্রগতির জন্য কাজ করতে হবে আমাদের সবাইকে একসাথে।

 

Share.

Leave A Reply

ninety nine ÷ eleven =