ঢাকায় ইরানি ছবির শুটিং

0

সাদমান শাওন-
ইরানি সিনেমার কদর বিশ্ব জুড়ে। সেই ইরানি সিনেমার শুটিং চলছে ঢাকায়। তাও আবার কারওয়ান বাজারে। ছবির নাম ‘শাবি কে মহ কমেল শোদ’ বাংলায় অর্থ দাঁড়ায় ‘যে রাতে চাঁদ পূর্ণতা পেয়েছিল’।

ইরানের নারী চলচ্চিত্র নির্মাতা নার্গিস অবইয়ার দলটি নিয়ে এসেছেন ঢাকায়। গত শনিবার ইরান থেকে বাংলাদেশে আসে ২২ সদস্যের একটি শুটিং দল। দলটি এখন ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় শাবি কে মহ কমেল শোদ নামের ছবিটির শুটিং করছে।

ঢাকার নানা প্রান্তে শুটিং হচ্ছে। কখনো যাচ্ছেন ধানমণ্ডির লেকের পাড়ে, কখনো কারওয়ান বাজারের গলি-ঘুপচিতে। কখনো আবার তাঁদের পাওয়া যাচ্ছে মাওয়া ঘাটে। লাল গাড়ি নিয়ে তাঁরা ছুটে চলছেন শহরের নানা প্রান্তে। তাঁদের এই ঢাকা অভিযানের প্রতি মুহূর্ত শিল্পীরা ইনস্টাগ্রামেও পোস্ট করছেন।

তাঁরা ইংরেজিতে আলাপ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। তাই শুটিং দলের উপদেস্টা হিসেবে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষক মুমিত আল রশিদের মাধ্যমে কথা হয় ইরানি শিল্পী ও কৌশলীদের সঙ্গে। ছবির নায়ক হুতান শাকিবি ‘ইরানি বোরকা’ নামের একটি দোকানের ছবি পোস্ট করে নিজের অবস্থানের কথা জানান দিচ্ছিলেন। আর অভিনেত্রী এলনাজ শাকেরদুস্ত তো ঢাকায় এসে আমড়ার প্রেমে পড়ে গেছেন!

অন্যদিকে ছবির নির্মাতা নার্গিস অবইয়ার বলেন, ‘এই কয়েক দিনে বাংলাদেশের মানুষের আতিথেয়তায় আমি মুগ্ধ। এই কদিনে ঢাকার বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় আমি গিয়েছি। কিন্তু কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে পড়িনি। শহরের প্রতিটি জায়গাতেই কাজ করার অনুকূল পরিবেশ পেয়েছি।’

ছবির নির্মাতা নার্গিস অবইয়ার ইরানের বাণিজ্যিক ছবির নির্মাতা। এর আগে তাঁর নির্মিত ট্র্যাক ১৪৩ ছবিটি ইরানের ঐতিহ্যবাহী ফজর চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী ছবি হওয়ার মর্যাদা অর্জন করে। এ পর্যন্ত নার্গিস তিনটি পূর্ণদৈর্ঘ্য ও তিনটি তথ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন। ইরানে সাহিত্যিক হিসেবেও তাঁর রয়েছে বিশেষ সুনাম। ৩১টি উপন্যাস লিখেছেন।

ছবির ২০ ভাগ শুটিং হবে বাংলাদেশে। নির্মাতা জানান, প্রেমের এই ছবিতে দেখা যাবে ছবির নায়ক-নায়িকাসহ বেশ কয়েকজন গল্পের স্বার্থে বাংলাদেশে পাড়ি জমায়। তাঁদের উদ্দেশ্য থাকে বাংলাদেশ থেকে অভিবাসী হিসেবে ইউরোপের কোনো দেশে স্থায়ীভাবে চলে যাবে। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় চলতে গিয়ে নানা বাধাবিপত্তি আসে তাঁদের জীবনে। নায়ক কাজ নেন ঢাকার নিউমার্কেটের একটি কসমেটিকসের দোকানে, নায়িকাকে নিয়ে ঘুরে বেড়ান ঢাকার কিছু দর্শনীয় স্থানে, নায়িকা বাংলাদেশি পোশাক পরেন-এমন অনেক কিছুই দেখা যাবে ছবিতে।

নির্মাতা নার্গিস বলে রাখলেন, ‘বাংলাদেশ ও ইরানের কর্তৃপক্ষ সুযোগ করে দিলে ছবিটি সবাইকে দেখাতে আবারও এ দেশে আসতে চাই। আর বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়েও সিনেমা বানাতে চাই।’

Share.

Leave A Reply

3 × one =