টাকা দিয়ে থিসিস কিনে ডিগ্রী অর্জন?

0

বিশ্লেষণধর্মী ও সৃজনশীল শিক্ষায় উচ্চতর ডিগ্রী অর্জনের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরোতে হলে শিক্ষার্থীদের সাধারণ কোর্সের পাশাপাশি বিভিন্ন বর্ষে টার্ম পেপার, থিসিস-মনোগ্রাফ, মাঠকর্ম জমা দিতে হয়। নির্দিষ্ট নম্বরের ভিত্তিতে এগুলো মূল্যায়ন করা হয়।

তবে রাজধানীর নীলক্ষেত ঘুরে দেখা গেলো অন্য চিত্র। সস্তায় এগুলো কিনে তার ওপরে কেবল নিজের নামটি বসিয়েই দেদারসে চালিয়ে দিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। এসব গবেষণাপত্রের যথার্থতা যাচাই না করেই শিক্ষকরাও সেগুলোতে নম্বর দেন। আর এভাবেই নকল থিসিসে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি নিয়ে বের হয়ে যান শিক্ষার্থীরা। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষকরা নিজেরাই রেডিমেড থিসিস জমা দিতে শিক্ষার্থীদের পরোক্ষভাবে উদ্বুদ্ধ করেন। এদিকে শিক্ষাবিদরা বলছেন, ‘এমন কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের বিষয়ভিত্তিক সৃষ্টিশীলতাকে নিরুৎসাহিত করছে।

নীলক্ষেতের বাকুশাহ মার্কেটে ঘুরলেই দেখা মিলবে মাত্র ২০০ থেকে ৪০০ টাকায় ফটোকপি ও কম্পিউটারের দোকানগুলোতে বিভিন্ন বিষয়ের গবেষণাপত্র কিনতে পাওয়া যায়। কোনও কোনও দোকানের সামনে লেখাও রয়েছে, ‘এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিসিস, মনোগ্রাফ, মাঠকর্ম তৈরি ও প্রিন্ট করা হয়’।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েটসহ বিভিন্ন পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজসহ ঢাবি অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের সামাজিকবিজ্ঞান অনুষদ, আইন অনুষদ, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ ও বিজ্ঞান অনুষদের বেশিরভাগ বিভাগের শিক্ষার্থীকে টার্ম পেপার, থিসিস, মনোগ্রাফ ও মাঠকর্ম কাজ করতে হয়। উল্লিখিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর এসব টার্ম পেপার, থিসিস ও মনোগ্রাফ শিক্ষার্থীরা নীলক্ষেত থেকে নিয়ে যান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা যখন নীলক্ষেতের কম্পিউটারের দোকানগুলোতে টাইপ ও বাঁধাইয়ের কাজ করাতে আসেন, তখন দোকানদাররা সেগুলোর কপি তাদের কম্পিউটারে রেখে দেন। এগুলোই পরে চাহিদা অনুযায়ী টাকার বিনিময়ে বিক্রি করেন তারা।

শিক্ষকরা মাথা খাটানোর ভয়ে নীলক্ষেত থেকে থিসিসের কপি সংগ্রহ করতে আকার-ইঙ্গিতে শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করেন।শিক্ষকরা একটু দায়িত্বশীল হলেই গবেষণা শিখতে পারবে শিক্ষার্থীরা। মৌলিক গবেষণা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতে এক বর অংশের গুরুত্ব বহন করবে কিন্তু এটা হয় না। বিভাগগুলোর কোন কোন শিক্ষক এ কাজে জড়িত এমনটাও শোনা গেছে।

Share.

Leave A Reply

seventy six ÷ 19 =