ঝাড়ুদার থেকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার গল্প

0

সুমন সরোয়ার-

নরেন্দ্র মোদি ৬ বছর বয়সে গুজরাটের ভাডনাগার স্টেশনে তার বাবার সাথে চা বিক্রি করতেন। ১৯৯৫-৯৬ সালে মোদি গীর বনের পুরাতন এক মন্দিরে ঘুমাতেন। কারণ তিনি একা থাকতে পছন্দ করতেন। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধের পর মোদি আনুষ্ঠানিকভাবে আরএসএসে যোগদান করেন এবং হেডগিয়ার ভবনে স্থানান্তরিত হোন। সেখানে তিনি সিনিয়র নেতাদের জন্য চা, সকাল এবং সন্ধ্যার নাস্তা তৈরি করতেন। তিনি সেখানে ঝাড়ু দিতেন এবং পরিষ্কার পরিছন্নতার কাজে নিয়োজিত ছিলেন, যেখানে তখন ৮-১০টি কক্ষ ছিলো। ভারতের লেখক নীলাঞ্জন মুখোপাধ্যায় তার “The anatomy of Narendra Modi – the man and his politics” বইয়ে এই তথ্য তুলে ধরেছেন।

Rannade Prakashan কর্তৃক প্রকাশিত “Bal Narendra : Childhood Stories Of Narendra Modi” বইয়ে বলা হয়েছে, ১৯৬২ সালে যুদ্ধে গিয়ে মোদি সৈনিকদের খাবার এবং চা সরবরাহ করতেন এবং বাবাকে চা বিক্রি করতে সাহায্য করতেন।
১৯৬৬ সালে মোদি সন্ন্যাসী জীবন ধারণের জন্য গুজরাটের রাজকোটের রামকৃষ্ণ মিশনে যান। মোদি মূলত স্বামী বিবেকানন্দ্রের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে সন্ন্যাসী হতে চেয়েছিলেন। সেখানে মিশনের প্রধান স্বামী আত্মস্থানন্দের সাথে মোদির পরিচয় হয়।

স্বামী আত্মস্থানন্দের জন্ম ১৯১৯ সালে বাংলাদেশের ঢাকা শহরের কাছে । বাবা মার দেওয়া নাম ছিল সত্যকৃষ্ণ। কলেজজীবনে তিনি যুক্ত হন দিনাজপুর রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের সঙ্গে। ১৯৩৮ সালে শ্রীরামকৃষ্ণের সন্ন্যাসী শিষ্য বিজ্ঞানানন্দের কাছে দীক্ষা নেন আত্মস্থানন্দ।

নরেন্দ্র মোদি বর্তমানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী। ২০১৯ সালে ভারতের নির্বাচনে মোদির পুনরায় ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তিনিই এখন ভারতের জনগণের কাছে অনেক বেশি জনপ্রিয়।

মোদি একজন চা বিক্রেতা, ঝাড়ুদার থেকে যদি দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারে তবে আমরা কেন পারবোনা? আমি বলছিনা সবাইকে প্রধানমন্ত্রীই হতে। আমি বলবো সবাইকে স্বপ্ন দেখতে। তবে শুধু স্বপ্ন দেখলেই হবেনা এর জন্যে লেগে থাকতে হবে। একদিন না একদিন অবশ্যই আপনি সফলতার মুখ দেখবেন।

Share.

Leave A Reply

eight + one =