জীবন তরীতে চলে জীবন রক্ষা

0

সিনথিয়া করীম-

মাঝারি আকৃতির এক জাহাজ। যার ভেতরে নাকি আছে চিকিৎসা দেবার ব্যবস্থা। নামটিও একেবারে মিলে যায় খাপেখাপ। জীবন তরী। জাহাজের ওপর প্রতিষ্ঠিত এক হাসপাতাল, যা সাধারণত প্রতিবন্ধীদের সেবা দিয়ে থাকে।

১৯৯৯ সালে মূলত গ্রামের মানুষের চিকিৎসা এবং প্রতিবন্ধীদের চিকিৎসার সুবিধার্থেই ইমপ্যাক্ট ফাউন্ডেশন নামের একটি বেসরকারি সংস্থা এপ্রিল মাসে জীবন তরী নামক এই দাতব্য হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করে। গ্রামের অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষের সুস্বাস্থ্যের কথা ভেবে এই হাসপাতালের সৃষ্টি।

দাতব্য হাসপাতাল বলে হেলা ফেলা করার সুযোগ নেই মোটেও। একটি ভালো মানের হাসপাতালের প্রাপ্য সুবিধাদি এখানেও দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এখানে রয়েছে অপারেশন থিয়েটার, রোগীদের জন্য ১২ টি শয্যা, এক্স-রে এবং প্যাথলজি ল্যাব।অপারেশন থিয়েটারটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। আরও রয়েছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের জন্য আলাদা আলাদা কক্ষ।

চিকিৎসার ধরন-

জীবন তরী নামক এই দাতব্য হাসপাতাল সাধারণ চিকিৎসা ও শল্য চিকিৎসা প্রদান করে থাকেন। নাক, কান, গলা, চক্ষু রোগীদের চিকিৎসা, ঠোঁট কাটা, পঙ্গু ও প্লাস্টিক সার্জারিসহ অন্যান্য চিকিৎসা প্রদান করা হয়।

এখানে সবসময়ই চিকিৎসক উপস্থিত থাকেন। একজন প্রশাসকের সাথে থাকেন তিনজন সার্বক্ষণিক চিকিৎসক, ছয়জন নার্স, রক্ষণাবেক্ষণ কর্মচারী , স্বাস্থ্য চিকিৎসক, টেকনিশিয়ানরা সর্বদা এখানে কর্মরত আছেন।

একটি নির্দিষ্ট জায়গায় অবস্থান করার পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল হিসেবে সেবা প্রদান করেন এই হাসপাতাল। সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সেবা প্রদানের সময়সূচী।

নিজেদের সেবা ও ভাল ব্যবহারের মাধ্যমে অনায়াসে হতদরিদ্র নারী, পুরুষ ও শিশুদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন জীবন তরীর সেবাদানকারীগণ। অনেকেই ব্যয়বহুল চিকিৎসা নেয়ার বদলে এখানের চিকিৎসকদের কাছে শরণাপন্ন হলেও নিরাশ হচ্ছেন না একদমই। এভাবে বাড়ীর কাছে এসে চিকিৎসা দেওয়ার মত এমন বিরল ঘটনায় যেন আকাশের চাঁদ হাতে পান তারা।

Share.

Leave A Reply

− four = one