ছাত্রগুলো যেন লিডার হয়

0

নতুনকিছু ডেস্ক–

স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এর ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড.সাঈদ সালাম স্টেট ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন অগ্রগতি নিয়ে কথা বলেছেন নতুনকিছু ডট কমের প্রতিনিধি আমিনুল ইসলাম নাবিল এর সাথে।

নতুনকিছু:আপনার শৈশব সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি।
ড:সাঈদ সালাম:জন্মগ্রহন করেছি বগুড়ায় ১৯৬২ সালে।প্রাইমারী লেভেলে পড়াশুনা করেছি মিশন স্কুল শান্তাহারে।অত:পর এসএসসি সম্পন্ন করেছি বগুড়া জেলা স্কুল থেকে আর এইচএসসি সরকারী আজিজুল হক কলেজ থেকে।আমার বাবা ছিলেন পেশায় একজন রেলওয়ে অফিসার।

নতুনকিছু: আপনার জীবনের স্বপ্ন কি?
ড: সাঈদ সালাম: ছোটবেলায় ভাবতাম যারা ইঞ্জিন চালায় তারাই ইঞ্জিনিয়ার।সেই থেকেই ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার ইচ্ছা।বুয়েট ভর্তি পরীক্ষায় পঞ্চম স্থান অধিকার করেছিলাম।মেডিকেলেও চান্স পেয়েছিলাম কিন্তু ভর্তি হই ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বুয়েটে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে।১৯৮৪ সালে স্নাতক সম্পন্ন করে ১৯৯৫ সালে মালয়েশিয়ার কেবাংসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রী লাভ করি।

নতুনকিছু: আপনার কর্মজীবন সম্পর্কে বলুন।
ড: সাঈদ সালাম: ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সাইন্স ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি।এছাড়াও দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেছি।আর বর্তমানেতো আছি স্টেট ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে ইতোপূর্বে এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই সিএসই বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্বে ছিলাম।

নতুনকিছু: স্টেট ইউনিভার্সিটি নিয়ে আপনার কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা?
ড: সাঈদ সালাম: হ্যা আমার চাওয়া এবং পরিকল্পনা এখানকার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গুনগত মান উন্নত করা।শিক্ষার্থী গুলোকে আমরা একেকজন লিডার হিসেবে তৈরী করতে চাই,কো-কারিকুলামে আরো গুরুত্ব বাড়াতে চাই,শিক্ষার্থী গুলো যেন হয় ইংরেজি ভাষায় দক্ষ সর্বোপরি আমরা শিক্ষার্থীদের গ্লোবাল সিটিজেন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।আমাদের নতুন ক্যাম্পাস হচ্ছে পূর্বাচলে সেটা সম্পন্ন হলে প্লে-গ্রাউন্ড-সুইমিং পুল সহ কো-কারিকুলামের দ্বার আরো প্রসারিত হবে।ক্লাব গুলোর জন্য মেনটর-কোচার নিয়োগের ও ইচ্ছা আছে।

নতুনকিছু:শিক্ষার্থীদের উদ্দ্যেশ্যে কিছু বলুন।
ড: সাঈদ সালাম: পড়াশুনা করতে হবে,পরিপূর্ণ সিলেবাস সম্পন্ন করতে হবে।আমার কথা যদি বলি আমি সবসময় অন্যদের থেকে এগিয়ে থাকতে পছন্দ করতাম।এসএসসি এর সময় আগেই এইচএসসির বই পড়ে ফেলতাম আর এইচএসসির সময় অনার্সের বই পড়ে ফেলতাম।আসলে আগে থেকে পড়ে আসলে পড়া ভালো শেখা যায়।নিয়ম মত পড়াশুনা করলে পড়াশুনা সহজ বিষয় হয়ে যায় তবে চাকুরী ব্যাপার টা কঠিন।শিক্ষার্থীদের উদ্দ্যেশ্যে আরো বলবো তোমরা কোনো ভুল পথে যাবে না হোক সেটা জংগীবাদ কিংবা মাদক সেবন ইত্যাদি কর্মকান্ডে।ইউনিভার্সিটি মূলত স্কুলের মত নয় এখানে তোমরা প্রচুর স্বাধীনতা পাও।তবে মনে রাখতে হবে এই স্বাধীনতার অপব্যবহার করা যাবে না।সামাজিক এবং মানবিক কাজে তোমরা অংশ নিবে।পরিবেশকে কিভাবে পরিচ্ছন্ন রাখা যায়,ব্লাড ডোনেট সহ ভালো কাজে এগিয়ে যাবে।সাধারণ মানুষ একটা ভুল ধারণায় থাকে তারা ভাবে ছাত্র মানেই মারামারি করা কিংবা স্বাধীনতার অপব্যবহার করা ইত্যাদিকে।এসব দৃষ্টিভংগির পরিবর্তন করবে।তোমরাইতো আগামী দিনের ভবিষ্যত কর্ণধার।তোমরাই আগামী দিনের দেশ পরিচালনা করবে।মেধার পাচার নিয়ে তোমাদের সচেতন থাকতে হবে।আজ আমাদের তৈরী করা মেধাসম্পদ গুলো টাকার বিনিময়ে কিনে নিয়ে যাচ্ছে আষ্ট্রেলিয়া-কানাডার মত উন্নত বিশ্বের দেশগুলো।এতে সাময়ীক সামান্য কিছু লাভ হলেও দীর্ঘমেয়াদি বৃহৎ লাভ হচ্ছে না।

নতুনকিছু: শিক্ষ্যা ব্যবস্থা নিয়ে আপনার অভিমত কি।
ড: সাঈদ সালাম: বর্তমানে প্রশ্নফাস নিয়ে তুমুল সমালোচনা হচ্ছে।সম্প্রতি প্রশ্নফাস এর জন উদ্বিগ্ন হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ রাখার ও চিন্তা করা হয়েছিল।আসলে এগুলো সমাধান না,সমস্যা আমাদের গোড়ায়।সোর্স ঠিক করতে হবে।যারা এসব প্রশ্নফাস সহ এসব অনৈতিক কাজে লিপ্ত তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে।এসব প্রশ্ন তৈরীতে যত কম মানুষ রাখা যায় ততই ভালো।আমিও একসময় ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ে এডমিশন টেস্ট এর দায়িত্বে ছিলাম।আমি আমার নাম কোথাও ব্যবহার করতাম না এমনকি পরীক্ষা পূর্ববর্তী সময়ে অপরিচিত ফোন নাম্বার থেকে আসা ফোনকল রিসিভ করতাম না।সবচেয়ে বড় বিষয় নিজেদের সৎ থাকতে হবে।দায়িত্ব নিয়ে সৎ থেকে কাজ করতে হবে।

 

Share.

Leave A Reply

− three = two