চারিদিকে শীতের আমেজ

0

কয়েকদিনের গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টিতে প্রকৃতির শান্ত পরিবেশ অনেকটাই শীত শীত আমেজ নিয়ে এসেছে। গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি। ঝিরিঝিরি হাওয়া। মৃদু ঠাণ্ডা বাতাস। বাতাসে শীতের পরশ। কুয়াশার স্নিগ্ধ চাদর। গরম কাপড়ের উষ্ণতা। কাট-খড় জ্বালিয়ে আগুন পোহানো। ভাপা পিঠা কিংবা খেজুর রস। সরিষা ক্ষেতের হলুদ বাগিচা। সবুজ শাকসবজির সতেজতা। শীতকে বরণ করে প্রকৃতি দেখাবে আপন লীলা। কনকনে শীতে রূপ-বৈচিত্র্যের বাহারি ঢঙে সাজবে শুভ্র সকাল। অতিথি পাখির কলকলানিতে ভরে উঠবে হাওড়-বাওড়। এই বুঝি শীত এলো। শীতের আগমনের প্রাক্কালে প্রকৃতিতে আসছে নানা পরিবর্তন।

প্রকৃতির সাথে মানুষের জীবনযাত্রায়ও আসে ব্যাপক প্রস্তুতি। দৈনন্দিন রুটিনে আসে পরিবর্তন। ঋতু বৈচিত্র্যের দেশ বাংলাদেশ। ষড়ঋতুর এই দেশ বাংলাদেশ। পৌষ ও মাঘ মিলে শীতকাল হলেও শীতের শুরুটা হয় কার্তিকের মাঝামাঝিতে। আর অগ্রহায়ণের হাত ধরে শীতের রেশ থেকে যায় ফাগুনের আগুন লাগা পর্যন্ত। মাঝের সময় জুড়ে চলে শীত-শীত রব আর শীতের জাত চেনানো খেলা।

বাংলাদেশে শীতের আগমনটা শহরের তুলনায় গ্রামে একটু আগেই নামে। শহরের যান্ত্রিকতার মায়াজালে দৃশ্যমান হয়ে উঠেনা প্রথম দিককার শীতের সকাল। গ্রামে যখন হাড়কাঁপা শীত নামে তখনই শহুরে মানুষ উপলব্ধি করতে শুরু করে শীতের কনকনানি। শীতের প্রকোপও গ্রামের তুলনায় শহরে অনেকটা কম। শীতের আসল চেহারা আর রূপ-বৈচিত্র্য পুরোপুরি দেখতে পাওয়া যায় গ্রামে। গ্রাম-গ্রামান্তরে চলে শীতের নানা আয়োজন। শীতের সকালে গ্রামের ঘরে ঘরে বাতাসে ভেসে বেড়ায় খেজুর রস আর গুড়-পাটালির সাথে গরম গরম ভাঁপা পিঠার সুঘ্রাণ। শীতের বাহারি পিঠেপুলি, গুড়ের পায়েস আর মোয়ার সমারোহ। শুধু গ্রামে নয় ভাঁপা পিঠার ঘ্রাণ মেলে শহুরে জীবনেও।

আবহাওয়াবিদরা জানান, নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি শীতালু ভাব বাড়বে। এখন উত্তরে হাওয়া না বইলেও মধ্য কার্তিকে ঝিরঝিরে বৃষ্টি ঠাণ্ডার অনুভূতি বাড়িয়েছে। হেমন্তে সন্ধ্যারাত ও ভোরে কুয়াশা বা হালকা বৃষ্টি অস্বাভাবিক নয়। বাতাসে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান কমে এলে ঠাণ্ডা অনুভূতিও বেড়ে যায়।

আবহাওয়া অফিস বলছে, নভেম্বর মাসে রাতের তাপমাত্রা কমতে থাকবে। সে সময় বঙ্গোপসাগরে দুই-একটি নিম্নচাপ হতে পারে, যার মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।ডিসেম্বরের শেষার্ধে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এসময় ঘন কুয়াশা পড়তে পারে।

Share.

Leave A Reply

six × = 42