‘চাকরিজীবী নয়, চাকরিদাতা হবো’

0

আপনি ডায়েট করছেন? আপনার কি ডায়বেটিস? স্বাদ, সামর্থ্য আর ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও জ্যুস খেতে পারছেন না। চিন্তা নেই। ডায়েট করছেন বা ডায়বেটিস রোগে ভুগছেন, তাদের জন্য স্বল্প দামে স্বাস্থ্যকর জ্যুস তৈরি করবেন স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বিজনেস স্টাডিজ বিভাগের ৩৯ ব্যাচের একদল ছাত্র। এ ব্যাচের আরও কয়েকটি দল জ্যুসের মতোই অভিনব কিছু উদ্ভাবন নিয়ে হাজির হয়েছেন নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় ক্যাম্পাসের ক্যান্টিনে।

বিজনেস স্টাডিজ বিভাগের এন্টারপ্রিনিয়ারশিপ এন্ড স্মল বিজনেস কোর্সের অধীনে এ ব্যাচের ছাত্ররা মোট নয়টি প্রজেক্ট প্রদর্শন করে গত ১৪ ডিসেম্বর। বেলা ১১টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত বিভিন্ন স্টল তৈরি করে প্রজেক্টগুলো প্রদর্শন করেন তাঁরা। পুরো আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন কোর্স শিক্ষক ও বিজনেস স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নিপা সাহা। ‌’চাকরি নয়, নিজেই উদ্যোক্ত হবো, চাকরিদাতা’-এমন ভাবনাকে সামনে রেখেই মূলত এ আয়োজন।

প্রজেক্টগুলো ঘিরে ছিল উৎসুক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভিড়। নতুন ধারণার বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে সফল উদ্যোক্তা হওয়ার রসদ ছিল প্রতিটি প্রজেক্টে। ফলে দর্শনার্থীদের মধ্যে উদ্দীপনা ও উৎসাহ ছিল তুঙ্গে।

একটি দলের প্রজেক্ট ছিল ডে কেয়ার সেন্টার নিয়ে। প্রশ্ন হতে পারে, দেশে তো অনেক ডে কেয়ার সেন্টার আছে। এ আর নতুন কি? আসলে শিক্ষার্থীরা এ প্রজেক্টে সামাজিক ও পারিবারিক উন্নয়নের একটি নতুন সূত্র ব্যবহার করেছেন। সাধারণত, শিশুরা পরিবারে বাবা, মা, দাদা-দাদু, নানা-নানু বা অন্যদের সঙ্গে যে সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষায় বেড়ে ওঠে, বিদ্যমান সেন্টারগুলোতে তার কোনো কিছুই নেই। শুধু বাচ্চা প্রতিপালনই ওই সেন্টারগুলোর কাজ। কিন্তু প্রতিপালনই শেষ কথা নয়। দরকার শৈশবের যথাযথ নৈতিক শিক্ষা। আর এমন শিক্ষার সম্মিলনে গড়ে উঠবে ডে কেয়ার সেন্টার। এমনই এক প্রজেক্ট প্রদর্শন করে রীতিমতো চিন্তার এক খোরাকও দিয়েছেন এ শিক্ষার্থীরা।

আরেক দল শিক্ষার্থীর পরিকল্পনা, তাঁরা স্মার্ট টেকনোলজি ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেবেন। আরেকদলের প্রজেক্ট ছিল হস্তশিল্প নিয়ে। আরেকদল তৈরি করবে মাশরুমের চিপস। এমন নয়টি প্রজেক্টে মনোমুগ্ধকর ও শিক্ষামূলক ছিল পুরো আয়োজন।
অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, চাকরির জন্য চিন্তা না করে নিজেই কীভাবে উদ্যোক্তা হওয়া যায়, তা আমরা এ কোর্সের মাধ্যমে তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক দিক নির্দেশনা পেয়েছি। এ জন্য শিক্ষক নিপা সাহা ম্যামকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

প্রজেক্ট পরিদর্শন করেন স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপদেষ্টা ড. এস এম এ ফায়েজ, বিজনেস স্টাডিজ বিভাগের উপদেষ্টা প্রফেসর মোহাব্বত আলী ও প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) প্রফেসর কামরুজ্জামানসহ বিভাগের অন্য শিক্ষককেরা। পরিদর্শনকারী শিক্ষকেরা বলেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গঠনে বেশ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
কোর্স শিক্ষক নিপা সাহা বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে চাকরির পেছনে না ঘুরে নিজেরাই উদ্যোক্তা হতে পারে এ কারণে এ আয়োজনের ব্যবস্থা করেছি। মূলত উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য তাদের উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহিত করাই এ আয়োজনের উদ্দেশ্য। আশা করি, এ শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই অদূর ভবিষ্যতে সফল উদ্যোক্তা বেরিয়ে আসবে।

আরও ছবি

Share.

Leave A Reply

+ 68 = 71