চরফ্যাশনে বাংলার আইফেল টাওয়ার

0

আমিনুল ইসলাম নাবিল- 

২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২১ তলা ভবনের সমান উচ্চতার এ টাওয়ার দক্ষিণাঞ্চলে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। জেলা শহর ভোলা থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে সাগরের কোল ঘেঁষে উপজেলা শহর চরফ্যাশনে নির্মিত এ টাওয়ারটির নাম জ্যাকব টাওয়ার।

২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে টাওয়ার নির্মাণের কাজ শুরু হয়। টানা ৫ বছরের বিশাল কর্মযজ্ঞের ফসল এটি। বন ও পরিবেশ উপমন্ত্রী ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের একান্ত চেষ্টা ও শ্রমে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে ‘বাংলার আইফেল টাওয়ার’ পরিচিতি পাওয়া এই স্থাপনা।

আধুনিক প্রযুক্তিতে নির্মিত টাওয়ারটিতে পর্যটক আকর্ষণের সব ব্যবস্থাই রাখা হয়েছে। টাওয়ারের শীর্ষে দাঁড়িয়ে বাইনোকুলারে চোখ রাখতেই দেখা মিলবে সংরক্ষিত বনাঞ্চল চর কুকরি-মুকরির নয়নাভিরাম সবুজের সারি। মনে হবে হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যায় ঘন বনজঙ্গল।

ডানে-বামে চোখ ফেরাতে ভেসে ওঠে তারুয়া সৈকত, স্বপ্নদ্বীপ মনপুরার চর পিয়াল, হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপ আর বঙ্গোপসাগরের বিশাল নীল জলরাশি। চোখ বন্ধ করে কান পাতলেই শোনা যাবে ঢেউয়ের গর্জন। এভাবে চোখের সামনে ওঠে আসবে চারপাশের প্রায় ১০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা। প্রায় ২২৫ ফুট উঁচুতে অবস্থান করে মনে হবে মেঘের ভেলায় ভাসছি, হাত বাড়ালেই পেঁজা তুলোর মতো মেঘ যেন ছোঁয়া যায়।

১৬ তলা বিশিষ্ট এই টাওয়ারের প্রতিটি তলায় একই সঙ্গে ৫০ জন এবং পুরো টাওয়ারে ৫০০ দর্শক অবস্থান করতে পারবেন। টাওয়ারে পর্যটকদের ওঠানামার জন্য স্বচ্ছ গ্লাসের ক্যাপসুল লিফট এর ব্যবস্থা রয়েছে। টাওয়ারটিতে প্রবেশ ফি ১০০ টাকা নির্ধারণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। টাওয়ারটি ৮ মাত্রার ভূমিকম্প সহনীয়।

Share.

Leave A Reply

thirty four + = thirty six