গোসলে কমবে বিষণ্ণতা

0

বিষণ্ণতায় ভুগছেন এমন মানুষেরা নিয়মিত উষ্ণ জলে গোসল করলে তাঁদের মাঝে এক ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় এমনই এক তথ্যের উদ্ভাবন ঘটেছে জার্মানির ফ্রেইবারগ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক করা এক গবেষণায়।

মূলত আমাদের ‘সার্কেডিয়ান ছন্দ’ অর্থাৎ শারীরিক ও বায়োক্যামিকেল পরিবর্তনের ফলে এমন বিষণ্ণতা দেখা দেয়। সার্কেডিয়ান ছন্দ হচ্ছে যে কোন জীবন্ত প্রানীর শারীরিক,মানসিক এবং আচরণগত পরিবর্তন যা প্রায় ২৪ ঘন্টা চক্র অনুসরণ করে চলে থাকে, প্রাথমিকভাবে এটি সাধারনত একটি জীবের পরিবেশ,আলো এবং অন্ধকারের প্রতি প্রতিক্রিয়াশীল। সোজাসাপ্টা বাংলায় এটিকে “দেহঘড়ি” বলা হয়।

এক কথায় বলা যায় এটি এক ধরনের এলার্ম যা আমাদের শরীর কে কখন ঘুমাতে হবে বা ঘুম থেকে উঠতে হবে বা খেতে হবে সেই নির্দেশ প্রদান করে। যখন কোন কারনে সার্কাডিয়ান রিদম বাধাগ্রস্ত হয় তখন সময়মত ঘুম হয়না বা ঘুম থেকে উঠা যায় না বা ক্ষুধা লাগেনা। সম্প্রতি এক গবেষনায় দেখা গিয়েছে বাধাগ্রস্ত ‘সার্কেডিয়ান ছন্দ জন্য মানুষের স্থূলতা, হৃদরোগ,নিউরোলজিক্যাল প্রব্লেম যেমন বিষণ্ণতা ইত্যাদির মারাত্নক ঝুকি রয়েছে। সার্কেডিয়ান ছন্দের গবেষণাটি ক্রোনোবায়োলজি নামে পরিচিত।

আমাদের মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালমাস অঞ্চলের প্রায় ২০ হাজার সুপরাকিউজমেটিক নিউরন নিয়ে এটি গঠিত। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সবার মাঝে যে শারীরিক, মানসিক এবং আচরণগত পরিবর্তন হয়ে থাকে তার জন্য দায়ী এই দেহঘড়ি বা সার্কেডিয়ান ছন্দ । মস্তিষ্কে অবস্থিত নিউরনকে আলোর মাত্রা একধরনের সংকেত প্রেরণ করে থাকে। উক্ত সংকেতের ওপর মানুষের শারীরিক বা মানসিক সক্ষমতা নির্ভর করে। যার ফলে দেখা যায় কেউ নির্দিষ্ট একটি সময়ে সতেজ অনুভব করে আবার কেউ দুর্বল অনুভব করে।

এটি হয়ে থাকে সার্কেডিয়ান ছন্দ বা দেহঘড়ির পার্থক্যের কারণে। প্রায় অধিকাংশ মানুষের সার্কেডিয়ান ছন্দ একটি সুনির্দিষ্ট রুটিন বা কার্যকাঠামো অনুসরণ করে থাকে। সার্কেডিয়ান ছন্দের প্রভাবে আমাদের দেহের তাপমাত্রা, ব্যথা অনুভূতি, মানসিক কার্যক্ষমতা, শারীরিক কার্যক্ষমতা, রক্তপ্রবাহ নির্ধারিত হয়ে থাকে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কাজকর্মে সার্কিডিয়ান রিদমের ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

আমাদের শরীরকে এক জোয়ার-ভাটাময় সাগরের সাথে তুলনা করলে বিন্দুমাত্র ভুল হবেনা। কেননা জোয়ার-ভাটার মতই আমাদের শরীরে শক্তি এবং অবসাদ একের পর এক আসে। কিন্তু যারা বিষণ্ণতায় ভোগেন তাঁদের জন্য এই ধারা প্রায়ই অব্যাহত থাকেনা।

বিকেল বেলার গোসল শরীরের তাপমাত্রা বাড়ায় এবং ‘সার্কেডিয়ান ছন্দ’ ফিরিয়ে আনে। এর ফলে রাতে ব্যাঘাতহীন ঘুম হবে।
মানুষের মানসিক অসুস্থতার মধ্যে বিষণ্ণতা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যায়। তাই এই বিষণ্ণতা দূরীকরণের ক্ষেত্রে থেরাপি, ব্যায়াম করা এবং বিষণ্ণতা রোধক ওষুধের পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।

কিন্তু সম্প্রতি জার্মানির এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় গোসলের মাধ্যমে বিষণ্ণতা দূরীকরণের কথাটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। যার মাধ্যমে স্বল্প ও মাঝারি বিষণ্ণতা যাদের আছে তারা সহজেই উপকৃত হতে পারেন।

Share.

Leave A Reply

four + 6 =