গল্পে গল্পে গণযোগাযোগের ইতিহাস

0

নতুনকিছু ডেস্ক।। 

জন্ম নেয়ার পর প্রথম যে মানবশিশু কেঁদে উঠেছিল সেই হলো যোগাযোগের স্রষ্টা। এই মানব সমাজে যোগাযোগের উদ্ভব তাই ঘটেছিল মানব সভ্যতার উন্মেষ ঘটার পাশাপাশি সময়কাল থেকেই। তাই যোগাযোগের ইতিহাস মানুষের ইতিহাসের মতই পুরানো, মানব সভ্যতার সূচনালগ্নে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে গুহার দেয়ালে আঁকা বা পশুর হাড়ে খোদাই করা চিত্র  এসবের প্রচলন ছিলো, ভাষার জন্ম তখনো হয়নি। আরো পরে মানুষ চিহ্ন প্রতীক বা বিভিন্ন প্রকার অবয়ব প্রকাশ করে ভাষার প্রয়োজন নিবারণ করতো। মানব সভ্যতা ক্রমান্বয়ে অগ্রগতির সাথে সাথে  মানুষ নিজেদের আবশ্যকীয় প্রয়োজনকে সনাক্ত ও আলাদা করতে শিখল এবং এই প্রয়োজনীয়তাকে সাধ্যমত কণ্ঠের সহায়তায় প্রকাশের প্রয়াস চালানোর চেষ্টা করতে  থাকলো।

তখনও ভাষার সৃষ্টি হয় নি যখন আমি একটি মেয়ের প্রেমে পরে যায়।কিন্তু কিভাবে তাকে বলব আমি তাকে ভালবাসি,আকার ইঙ্গিতে অনেক বুঝানোর চেষ্টা করি হয়ত তখন সে বুঝে ছিল কিন্তু সম্পূর্ন ভাবে বুঝতে পারে নি তাই সখ্যতাও তেমন হত না । দিন যাচ্ছিল এভাবেই, ভালবাসা বেড়েই চলছে আমার ।আস্তে আস্তে আমরা কথা বলতে শিখলাম তখন তাকে আমি আমার মনে কথা বলতে পেরেছিলাম এবং সে সেটা মেনেও নিয়েছিল।তার একটা নাম ও দিয়েছিলাম ভাষা শেখার পরই ,আর সেটা হচ্ছে শুকতারা।

আমাদের ভালবাসা দিন দিন বৃদ্ধি  পাচ্ছে কিন্তু অনেক দিন পর পর তার সাথে দেখা হয় মন খুলে কথা বলতে পারি না। সময়টা ১৪৫৫ তখন গুটেনবার্গ প্রিন্টিং প্রেস আবিষ্কার করল ।আর তখন থেকেই আমাদের ভালবাসা আরো সহজ হতে লাগল। দুরে থাকলেও মনে হয় অনেক কাছে আছি।বেশ কিছু দিন এমনই চলল। হঠাত স্যামুয়েল মোরস ১৮৩৫ সালে আমাদের ভালবাসা আরো গারো করার জন্য যোগাযোগ  এ সমৃদ্ধি ঘটানোর জন্য সেই ভদ্র লোক টেলিগ্রাফ আবিষ্কার করল।যার মাধ্যমে মনের মাধুর্য মিশিয়ে ভালবাসা নিবেদন করতাম আমরা । কত রোমান্টিক কথাই না টেলিগ্রাফ এ পাঠাতাম।এখনো মনে পড়ে দিন গুলির কথা। লিখতে লিখতে হাত ব্যাথা হয়ে যেত ।আমাদের এই দুংখ দেখে ভদ্রলোক আলেকজান্ডার গ্রাহমবেল ১৮৭৬সালে টেলিফোন নামক এক যন্ত্র আবিষ্কার করলেন।যার মাধ্যমে আমার আর আমার প্রেমিকা শুকতারার যোগাযোগ আরো সহজ হয়ে গেল ।দিনে কয়েকবার করে টেলিফোনের মাধ্যমে আমরা যোগাযোগ করতাম প্রেম নিবেদন করতাম । খুব আনন্দে কাটছিল আমাদের দিন। এরই মধ্য জগদীশ চন্দ্র বসু ১৮৯৮ সালে বেতার  আবিষ্কার করলেন সংকেত প্রেরনের সুবিধার্থে। আমাদের মন ভাল রাখতে লুমিয়ার ব্রাদারস চলচিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে যোগাযোগের নতুন মাইলফলক আবিষ্কার করলেন। এর পর থেকে রেডিওতে অনুষ্ঠান প্রচার করা হল আমাদের মন রঞ্জনের জন্য। টেলিভিশনের মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন করেন জনলগি বেয়ার্ড ১৯২৫ সালে । কিছুদিন পর ১৯৬৫সালে আমার প্রেমিকা বাইনা ধরল রঙ্গিন টেলিভিশন দেখবে, যে কথা সেই কাজ যোগাযোগের নতুন মাইল ফলক হিসেবে রঙ্গিন টেলিভিশনের আবিষ্কার। এভাবেই হত আমাদের যোগাযোগ। প্রেম ভালবাসা আমাদের চুটিয়ে চলছে। তার পরও যেন কিসের শুন্যতা। যোগাযোগটা যদি প্রতি মূহূর্তে হত তা হলে আমাদের কতইনা ভাল হত । মার্ক জাকারবার্গ ২০০৪ সালে আমাদের প্রতি সেকেন্ডে যোগাযোগের জন্য আবিষ্কার করলেন ফেসবুক । আমাদের যোগাযোগের মাত্রা আগের চেয়ে হাজার গুন বৃদ্ধি পেল ।এতে আমরা সারাক্ষণ একে অপরের সাথে যোগাযোগ করতে পারছি। সুখ দুখের যত কথা বলতে পারছি এমনকি একে অপরকে দেখতে ও পাচ্ছি । আমাদের যোগাযোগ এখন আর ১৪৫৫ সালের  আগে যেমন ছিল তেমন নেই । যোগাযোগের গতি হাজার গুন বৃদ্ধি  পেয়েছে।এর মধ্য আবার আমার প্রেমিকা সুকতারা বেকে বসল যে টেলিভিশন আর সে দেখবে না এমন কিছু লাগবে যেটাতে সে যা চাইবে তা লিখলে ই চলে আসবে । কি আর করার আমার প্রেমিকার চাওয়া অনুসারে ২০০৫ সালে ইউটিউব এর যাত্রা শুরু । যেটা যোগাযোগের মাত্রা আর ও কয়েক গুন বৃদ্ধি করেছে। যোগাযোগের বিপ্লবের যুগে আমাদের প্রেমের ফাটল ধরেছে। প্রেমটা অবশেষে টেকানো গেল না । যোগাযোগের বিপ্লবের কারনে সুকতারার বিয়ে হয়ে গেল । ভাষা সৃষ্টির আগে থেকে যাকে ভালবাসলাম সেই যোগাযোগের বিপ্লবের যুগে হারিয়ে গেল ।

গোলাম ওয়াদুদ

গণযোগাযোগের শিক্ষার্থী  ও গণমাধ্যমকর্মী

vividwadud@gmail.com

Share.

Leave A Reply

4 + three =