গণমানুষের জন্য কিছু করতে পারার মধ্যেই সার্থকতা

0

ব্যবসায় শিক্ষা প্রশাসন বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাসের পরিচিত মুখ মো. রায়হান খান এর সাথে কথা বলেছেন নতুনকিছু.কম এর প্রতিনিধি আমিনুল ইসলাম নাবিল।

নতুনকিছু.কম: শুভসন্ধ্যা, কেমন আছেন?

মো. রায়হান খান: শুভসন্ধ্যা, ভাল আছি।

নতুনকিছু.কম: শৈশব কেটেছে কোথায়?

মো. রায়হান খান: জন্মস্থান ও বেড়ে উঠা যশোর জেলার ঝিকরগাছা থানার নাভারনে। মফস্বলেই আমার বেড়ে উঠা। আমার প্রিয় স্থানও এই মফস্বলই।

নতুনকিছু.কম: শিক্ষাজীবন নিয়ে জানতে চাই।

মো. রায়হান খান: প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করি স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল থেকে। মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনা করেছি যশোরের সুপ্রসিদ্ধ স্কুল আকিজ কলেজিয়েট স্কুলে। উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় থেকে পড়াশোনা ঢাকাতে। মিরপুরের একটি বেসরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করে এখন স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শেষ বর্ষের শেষ সেমিস্টারে অধ্যয়নরত আছি। আর পাশাপাশি কো-কারিকুলাম দু’টি ক্লাবের সাথে যুক্ত আছি।

নতুনকিছু.কম: কোন কোন ক্লাবের সাথে যুক্ত আছেন?

মো. রায়হান খান: বিজনেস ক্লাব ও ডিবেট ক্লাবের সাথে যুক্ত আছি। বিজনেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ও ডিবেট ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।

নতুনকিছু.কম: একসাথে দু’টি ক্লাব কীভাবে সমন্বয় করেন?

মো. রায়হান খান: চেষ্টা করি সঠিক ভাবে কাজ করতে, কাজ যতোই থাক চাপ মনে হয় না। আসলে যখন ভালোবাসার জায়গা থেকে কাজ করা হয়, তখন সেটা আর পরিশ্রম মনে হয় না, বরং সঠিকভাবে কাজটি সমাপ্ত করতে পারলে আত্মিক প্রশান্তি আসে। আর সহকর্মীদের সহযোগিতা পাই সবসময়। তাই কঠিন কাজ নিমিষেই সহজ হয়ে যায়।

নতুনকিছু.কম: ক্লাব করার প্রয়োজনীয়তা কি?

মো. রায়হান খান: যেহেতু আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় অধ্যয়নরত অবস্থায় কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ সীমিত। এমতাবস্থায় ক্লাবকেই আমি মনে করি বিকল্প উপায়ে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের উৎকৃষ্ট জায়গা। এছাড়াও উচ্চারণ, বাচনভঙ্গি, দক্ষতা, যোগাযোগ, সামাজিকতাসহ আরও নানান কিছু শেখার জন্য ক্লাবের বিকল্প আর নেই।

নতুনকিছু.কম: ক্লাবকে ঘিরে আপনার পরিকল্পনা কি?

মো. রায়হান খান: পরিকল্পনার প্রথম সারিতে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে প্রথমবারের মত আন্তঃকলেজ ও আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করার। পরবর্তী পরিকল্পনা এর রেশ ধরে জাতীয় পর্যায়ের কোন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করা। ধীরে ধীরে যেন নতুন মেধাবী বিতার্কিকরা উঠে আসতে পারে সেটা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি বিজনেস ক্লাব নিয়েও কিছু ইভেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা আছে, একটি ইভেন্ট নিয়ে ইতোমধ্যে প্রসিদ্ধ একটি কোম্পানির সাথে কথা চলছে।

নতুনকিছু.কম: প্রথমবারের মতো জাতীয় বিতর্ক আয়োজনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে কি প্রস্তুত আছেন?

মো. রায়হান খান: চ্যালেঞ্জ তো অবশ্যই আছে। প্রথমবারের মতো  জাতীয় বিতর্ক আয়োজন করতে যাচ্ছি, অনেক বেশি চ্যালেঞ্জ এর মুখোমুখি হতে হবে। তবে সাহস পাই ক্লাবের স্বেচ্ছাসেবকদের দৃঢ়তা ও কর্তৃপক্ষের উৎসাহ এবং সহযোগিতা দেখে। গত মাসে আয়োজিত  আন্তঃবিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতা ছিলো এত বড় প্রোগ্রাম আয়োজনের জন্য আমাদের প্রশিক্ষণ পর্ব। এবার আমরা ৮ টি ভেন্যু একসাথে ডিবেট করেছি, ১০ জন স্বেচ্ছাসেবক দিনরাত পরিশ্রম করেছে। আর আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয়কে সামনে রেখে প্রায় ৪০ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক রাখার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। সকলের সহযোগিতায় আশা রাখছি ভালো কিছু উপহার দিতে পারবো।

নতুনকিছু.কম: ডিবেট ক্লাবে নারীদের অংশগ্রহণ কেমন?

মো. রায়হান খান: ডিবেটিং সোসাইটির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই নারীদের অংশগ্রহণ ছিলো উল্লেখযোগ্য। মৌ, মিলি, জুথি আপুদের মতো বিতার্কিকরা ছিলো। এখনও মোসাব্বিরা, স্বর্না, নাফলা, উজমাদের মতো অনেকেই রয়েছে। এছাড়াও কথা, রাখি, নাইমা, মাহরীনসহ আরো অনেকেই আছে, যাদের মাঝে এই ক্লাবের ভবিষ্যৎ দেখতে পাই। এছাড়াও সম্প্রতি আন্তঃবিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়েও বেশ কিছু সম্ভাবনাময় নারী বিতার্কিক পেয়েছি।

নতুনকিছু.কম: পড়াশোনার ব্যাঘাত না ঘটিয়ে কীভাবে কো-কারিকুলাম কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়?

মো. রায়হান খান: অবশ্যই মনোযোগ সহকারে নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকতে হবে। আর ক্লাব কার্যক্রমগুলো ক্লাস রুটিনকে মাথায় রেখেই নির্ধারণ করা হয়। তাই আমি মনে করি, প্রবল ইচ্ছাশক্তি নিজের ভিতর জাগ্রত করা ও সময়কে যথাযথ মূল্যায়ন করা।

নতুনকিছু.কম: পাঁচ বছর পর নিজেকে এবং নিজ বিশ্ববিদ্যালয়কে কোথায় দেখতে চান?

মো. রায়হান খান: নিজেকে একই সাথে কর্পোরেট আইকন এবং ছোট্ট পরিসরে হলেও উদ্যোক্তা হিসেবে দেখতে চাই। আর নিজ বিশ্ববিদ্যালয়কে বেসরকারির মধ্যে শীর্ষ পাঁচ এবং সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর শীর্ষ ২০এ দেখতে চাই।

নতুনকিছু.কম: কোন কোন কারণে মনে করেন স্টেট ইউনিভার্সিটি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আলাদা?

মো. রায়হান খান: স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ নিয়ে একসময় প্রচারণা কম ছিলো, তাই কমসংখ্যক মানুষ বিশ্ববিদ্যালয়টি সম্পর্কে জানতো। কিন্তু যা আমাকে খুব মুগ্ধ করে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে কোন খারাপ রেকর্ড নেই। অনেক পরিচিত বিশ্ববিদ্যালয়েরও সার্টিফিকেট বিক্রিসহ আরও কিছু বিতর্কিত বিষয় আছে। কিন্তু এক্ষেত্রে স্টেট ইউনিভার্সিটির উজ্জ্বল ভাবমূর্তি আছে বলে আমি আশা রাখি। এছাড়া স্টেটের অ্যালামনাইরাও  স্ব স্ব ক্ষেত্র আলোকিত করছে, যা দেখে খুব ভালো অনুভূত হয়।

নতুনকিছু.কম: কলেজ জীবন আর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের মূল প্রার্থক্যটা কোথায়?

মো. রায়হান খান: স্বাধীনতায়, নিজ মতামত ও চিন্তার পরিধি বিস্তৃতিতে, জ্ঞানের গভীরতায় এবং শ্রেণিকক্ষের বাহিরের শিক্ষায়।

নতুনকিছু.কম: কোন স্বপ্ন নিয়ে নিজেকে লালিত করছেন?

মো. রায়হান খান: জীবনের স্বপ্ন সুবিশাল, স্বপ্ন দেখি একদিন অনেক বড় হয়ে মা-বাবার স্বপ্ন পূরণ করবো। গণমানুষের জন্য কিছু করবো। আর সকলের ভালোবাসায় বেঁচে থাকতে চাই।

নতুনকিছু.কম: আপনাকে ধন্যবাদ।

মো. রায়হান খান: জ্বী,আপনাকে ও নতুন কিছু পরিবারকে অনেক ধন্যবাদ।

Share.

Leave A Reply

÷ two = 3