ব্যাটে-বলের ছন্দে আনন্দ মেলা

0

ছাত্রীদের নিয়ে এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে জিনাত আমিন, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (এসইউবি) আইন বিভাগের প্রধান। পাশে আরো কিছু ছাত্রী নিয়ে আছেন একই বিভাগের সমন্বয়ক নাজিয়া রহমান। মনে হতেই পারে, ক্লাসের জন্য অপেক্ষা করছেন তাঁরা। আসলে তা নয়। এ দুই ম্যাম অপেক্ষা করছেন মাঠে নামার জন্য, নিজ নিজ দল নিয়ে। অবশেষে সময় এল। চার-ছক্কা, উইকেট পতন, চিৎকার, হুই হুল্লোড়ে শুরু হলো ক্রিকেট খেলা।

বৃহস্পতিবার (১৮ অক্টোবর) আইন বিভাগ ক্রিকেট খেলার আয়োজন করে।   নাম ‘ল’ প্রিমিয়ার লীগের (এলপিএল)। এখানে নাজিয়া রহমান ও জিনাত আমিনের নেতৃত্বে দুইটি মেয়েদের দলও অংশ নেয়। আরও ছিল ছেলেদের চারটি দল। এ দলগুলোর নেতৃত্ব দেন চার শিক্ষক। খেলার ভেন্যু, টাউন হল মাঠ, মোহাম্মদপুর।

বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে শুরু হয় মেয়েদের ক্রিকেট খেলা। খেলা হয় আট ওভার করে।  প্রথমে ব্যাট করে নাজিয়া রহমানের দল‌ ‘ক্রিকেটিং ডিভাস’। আট ওভারের তাদের সংগ্রহ ৭৪ রান। এরপর মাঠে নামে জিনাত আমিনের দল ‘মিসটিক জিলস’। ‘ক্রিকেটিং ডিভাস’-এর বলের দাপটে একে একে পতন হতে থাকে উইকেটের। ৩৯ রানে শেষ হয় তাদের ইনিংস।  ম্যান অব দা ম্যাচ হন ‘ক্রিকেটিং ডিভাস’ দলের অগ্নিকন্যা ২৮তম ব্যাচের ভাবনা।

এরপর শুরু হয় ছেলেদের ফাইনাল খেলা পর্ব। প্রথম রাউন্ডে বিদায় নেয় দুটি দল। ফাইনালে ওঠে আইন বিভাগের প্রভাষক সানজাদ শেখের দল ‘টাইগার রোর’ ও প্রভাষক ওয়াসিক এজাজের দল ‘লায়ন শেপ’। বেলা দুইটার দিকে শুরু হয় ফাইনাল খেলা।  ‘টাইগার রোর’ প্রথমে ব্যাট করে ১৬ ওভারে ১৫৩ রান সংগ্রহ করে। আর ‘লায়ন শেপ’  ৩ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটে জয় ছিনিয়ে আনে। মানে, সিংহের কাছে বাঘের পরাজয়।  ম্যান অব দা ম্যাচ ও ম্যান অব দা টুর্নামেন্ট হন ‘লায়ন শেপ’ এর আলভি।

পুরো আয়োজনে এসইউবি’র আইন বিভাগের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলের উপস্থিতি বাড়তি মাত্রা যোগ করে। খেলা শেষে তিনি বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। খেলায় জয়-পরাজয়কে ছাপিয়ে মাঠে  ছড়িয়ে পড়েছিল আনন্দ। জয়ী যারা তাদের তো বটেই, সঙ্গে পরাজিতরাও। কারণ, জিতেছে সহকর্মীরা, শিক্ষার্থীরা, সহপাঠীরা, জিতেছে আইন বিভাগ। এ যেন ব্যাটে-বলের ছন্দে এক আনন্দ মেলা।

দিন শেষে সবার চোখে মুখে সেই আনন্দ বার্তা, ‘আমরা আমরাই তো।’

Share.

Leave A Reply

÷ ten = 1