কি থাকছে নতুন রূপে সজ্জিত ‘হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে’?

0

রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্র শাহবাগে অবস্থিত ‘রূপসী বাংলা’ হোটেলটি সেজেছে নতুন রূপে। নতুন নাম ‘ হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল’ নামে ইতিমধ্যেই পরিচিতি লাভ করেছে এই পাঁচতারকা হোটেলটি।

৬০ বছরের পুরনো ভবন সংস্কারের মাধ্যমে নতুন রূপে এসেছে রাজধানীর পাঁচতারকা হোটেল ‘ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা’। ভবনের মূল কাঠামো ঠিক রেখে যুক্ত করা হয়েছে স্থানীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মোগল স্থাপত্যশৈলী। সঙ্গে আধুনিক সময়ের চাহিদা মেটাতে আনা হচ্ছে অবকাঠামোগত পরিবর্তন। হোটেলের মূল নকশাতেও এজন্য আনা হয়েছে কিছু পরিবর্তন।

রাজধানীর বাকি পাঁচতারকা মানের হোটেলগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতেই হোটেলটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। গত বছরই এই সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নিখুঁতভাবে কাজ করতে গিয়ে সময় বেশি লেগেছে।

কখনো হোটেল শেরাটন, কখনো রূপসী বাংলা এবং সর্বশেষ ‘হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল’ নামে খ্যাত এই হোটেলটি মূলত ১৯৬৬ সালে শাহবাগে প্রায় সাড়ে চার একর জমির ওপর যাত্রা শুরু করে। ১৯৮৪ সালে হোটেলটি ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেয় শেরাটন। ২০১১ সালের এপ্রিলে শেরাটন চলে গেলে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেডের (বিএসএল) তত্ত্বাবধানে ‘রূপসী বাংলা’ নামে চলতে থাকে হোটেলটি। পরে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরকারের ৩০ বছরের চুক্তি হলে হোটেলটির সংস্কারে হাত দেয় তারা।

২০১০ সালের ১ মে পাঁচতারকা এই হোটেলের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সরকারি সংস্থা বিএসএলকে বুঝিয়ে দেয় তৎকালীন শেরাটন কর্তৃপক্ষ। ওই সময় ‘শেরাটন’ নাম বদলে রাখা হয় ‘রূপসী বাংলা’। পরে ২০১২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ইন্টারকন্টিনেন্টের সঙ্গে চুক্তি করে বিএসএল। চুক্তি অনুযায়ী ২০১৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে সংস্কারের জন্য বিরতিতে যায় হোটেলটি।

পাঁচ তারকামানের প্রতিটি সুবিধা নিয়ে অবশেষে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্দা উন্মোচিত হয়েছে আলোচিত এ হোটেলটি্র। বিশালাকারের ‘ইনফিনিটি সুইমিং পুল’, অত্যাধুনিক স্পা, জাকুঝি, পুলসাইড বার, প্রশস্ত লবি, রাজকীয় প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুইট, ৫টি সুসজ্জিত রেস্টুরেন্ট, সূর্যালোকের পর্যাপ্ত ব্যবহার আর সর্বত্র নান্দনিক কারুকার্যতার ছোঁয়ায় নতুন রূপে সেজেছে হোটেল ‘ইন্টারকন্টিনেন্টাল’।

মূল ডিজাইনটি ঠিক রেখে ভেতরের প্রায় সবকিছুরই বদল ঘটেছে। স্যুইট রুম ছাড়াও ডিলাক্স রুমগুলোর আয়তন আগের চেয়ে বেড়েছে। নতুন টাইলস, আধুনিক স্যানিটারি উপকরণসহ প্রতিটি বাথরুমেই থাকছে নতুন বাথটাব। রুমভেদে ৩২ ইঞ্চি থেকে শুরু করে ৪৮ ইঞ্চি টিভিসহ সবকিছুই থাকছে। বাইরের ফুলগাছ থেকে শুরু করে ভেতরের ফানির্চারে পর্যন্ত পরিবর্তনের ছোঁয়া। অতিথিদের সুবিধা বাড়ানোর জন্য যা যা করা প্রয়োজন তার সবই করা হয়েছে।

আগে প্রেসিডেন্ট স্যুইট ৬টি থাকলেও এখন করা হয়েছে ৫টি। অর্থাৎ পরিসর বাড়ায় সংখ্যা কমে গেছে। তবে এগুলোর নাম এখনও ঠিক করা হয়নি। এছাড়া আগে ২৬ বর্গমিটারের অতিথি কক্ষ থাকলেও সেগুলোর পরিসর বাড়িয়ে ৪০ বর্গমিটার করা হয়েছে। ফলে আগে গেস্ট রুম ছিল ২৭২টি। এখন কমে গিয়ে হয়েছে ২৩১টি। এছাড়া আগে বলরুম, উইন্টার গার্ডেনসহ মিটিং রুমগুলো বিভিন্ন দিকে ছড়ানো-ছিটানো ছিল। এখন নতুন হোটেলে মোট ৯টি হল থাকবে ২১ হাজার বর্গফুটের মধ্যে। এর মধ্যে ৬টিই থাকবে হোটেলের পূর্বদিকে (রমনা পার্কের পাশে)।

হলগুলোর নাম পরিবর্তন করে ইতিমধ্যেই ঠিক করা হয়েছে নতুন নাম। এর মধ্যে আগের গ্রান্ড বলরুমটিকে দু’ভাগ করে রূপসী বাংলা উইন্টার গার্ডেন-১ এবং রূপসী বাংলা উইন্টার গার্ডেন-২ রাখা হয়েছে। কারণ মূল হোটেলের নাম পরিবর্তন হলেও রূপসী বাংলার স্মৃতি হিসেবে এ হলের নামকরণ করা হয়েছে।

আগের বলরুমের নাম পরিবর্তন হয়ে এখন রাখা হয়েছে ক্রিস্টাল রুম, বীথিকার নাম পরিবর্তন হয়ে পার্ল, বকুলের নাম পরির্তন করে মধুমতি ও চামেলীর নাম পরিবর্তন করে তুরাগ রাখা হয়েছে। তাছাড়া ছোট ছোট মিটিং রুমগুলোর নামও বদলে গেছে।

Share.

Leave A Reply

eighty ÷ 10 =