কাঞ্চনে তারুণ্যভরা এক শুভ্র সকাল

0

সবুজে ঘেরা সারি সারি গ্রাম। ভোরের জড়তা ভেঙে উঁকি দিয়েছে কেবল সূর্য। সোনালী রোদের আভায় স্নাত বয়ে যাওয়া শীতালক্ষ্যা নদী। সবুজের গায়ে কাশবনের সাদা আল্পনা। যেন এক স্বর্গ রাজ্য। এখানেই গড়ে উঠেছে জ্ঞানের কেন্দ্র। কিছুক্ষণের মধ্যে এ কেন্দ্রে পদার্পন করলো এক ঝাঁক তরুণ। তারুণ্যের প্রাণোচ্ছলে অন্য এক মন জুড়ানো সকাল দেখল রূপগঞ্জের কাঞ্চন।

এ তরুণেরা সবাই স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের শিক্ষার্থী। ওই জ্ঞানের কেন্দ্রটি হলো, স্টেট ইউিনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী ক্যাম্পাস। সোমবার (১ অক্টোবর) প্রথমবারের মতো এখানে শুরু হয় ক্লাস। ইংরেজি বিভাগ ও জার্নালিজম, কমিউনিকেশন এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের ক্লাস দিয়েই শুরু হয় এ ক্যাম্পাসের যাত্রা।

সকাল ৮টায় রাজধানীর কলাবাগানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় ক্যাম্পাস থেকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসযোগে যাত্রা শুরু হয়। সঙ্গে ছিলেন ইংরেজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শাহীন মাহবুবা কবির ও সাংবাদিকতা বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষক ফটোসাংবাদিক শাহাদত পারভেজ। ছিলেন ডেপুটি রেজিস্ট্রার ফারহানা শারমিন ও নজরুল ইসলাম।

তবে আগেই কাঞ্চনে গিয়ে উপস্থিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাঈদ সালাম, রেজিস্ট্রার মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, ট্রেজারার তারিকুজ্জামান খান ও সাংবাদিকতা বিভাগের সমন্বয়ক কাজী আনিছ। স্থায়ী ক্যাম্পাসের সবকিছু বন্দোবস্ত করার দায়িত্বে ছিলেন ডেপুটি রেজিস্ট্রার এমডি মোকবুল হোসেন, সহকারী রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমসহ আরও অনেকে।

সকালের নাস্তার সারার পর শুরু হয় স্বল্প সময়ের আলোচনা। এখানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাঈদ সালাম বলেন, ২০০২ সালে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (এসইউবি)-এর জন্ম। আজ বিশ্ববিদ্যালয়টির একটি ঐতিহাসিক দিন। শহর মূলত কোন গবেষণার জায়গা নয়, ওখানে দিন শেষে সবাই যন্ত্রের সাথে যান্ত্রিক হয়ে যায়। শিক্ষার্থীরা যাতে প্রকৃতির মাঝে থেকে প্রশান্তি নিয়ে কাজ করতে পারে, শিক্ষকরা যাতে শিক্ষাদানে মনোনিবেশ করতে পারে, এজন্যই এসইউবি’র এই বিশাল প্রচেষ্টা।

রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘আমরা কেবল শুরু করেছি। আশা করি, আমাদের এই ক্যাম্পাসটি সকল প্রকার অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার থাকবে। গবেষণার জন্য আলাদা ল্যাব, লাইব্রেরি ও প্রযুক্তি নির্ভর গবেষণা কেন্দ্র থাকবে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশনকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ঠিক সময় ক্যাম্পাসটিতে ক্লাস শুরু করতে পেরেছি, তাই আমরা আনন্দিত ও গর্বিত।

ট্রেজারার তারিকুজ্জামান খান বলেন, এসইউবি দেশের একটি মডেল বিশ্ববিদ্যালয় হবে। এই মূল ক্যাম্পাসটি প্রযুক্তি ও প্রকৃতির একটি সম্বনয় কেন্দ্র হবে।

অধ্যাপক শাহীন মাহবুবা কবীর তাঁর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘আজ আমার কাছে মনে হয়, আমি আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে চলে গেছি। কী সুন্দর প্রকৃতির মাঝে নিরিবিলি ও মনোরম পরিবেশে ক্যাম্পাস! সত্যি এটি জ্ঞানপিপাসুদের জন্য তীর্থস্থান হবে।

সহকারী অধ্যাপক পরেন চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘আমি এই ঐতিহাসিক দিনে থাকতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি। সবার মঙ্গল কামনা করছি।

জ্যেষ্ঠ প্রভাষক কাজী আনিছ বলেন, বিশ্বের প্রায় বড় বড় শহরগুলো যে কোন একটি ঐতিহাসিক বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে। আমি মনে করি, আমাদের স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ক্যাম্পাসটি শহর থেকে যদিও একটু দূরে অবস্থিত, কিন্তু এই এলাকাটি একদিন এই বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করেই বড় শহরে রূপান্তর হবে। এটি এখনই ধীরে ধীরে প্রতীয়মান।

ফটোসাংবাদিক শাহাদাত পারভেজ বলেন, তিনি মূলত ছবি নিয়ে কাজ করেন। ক্যাম্পাসটির পটভূমিটি এতটা সাজানো, যে ক্যাপশনের প্রয়োজন হয় না। প্রকৃতির মাঝে বিশ্ববিদ্যালয়টিই যেন একটি জীবন্ত পোট্রেট।

বক্তব্য রাখেন ইংরেজি ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরাও। তারা বলেন, প্রথম দিকে তাদের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছিল। কিন্তু এখন প্রকৃতির মাঝে স্থায়ী ক্যাম্পাস দেখার পর তাদের খুব ভালো লাগছে। প্রতিদিন ক্লাস হলেও তারা এখন তা করতে রাজি।

শিক্ষার্থীরা সুন্দর যাতায়াত ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা রাখায় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।

দুপুরের খাবার শেষে বেলা তিনটার দিকে স্থায়ী ক্যাম্পাস থেকে বিজয় ক্যাম্পাসে ফিরে আসে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

Share.

Leave A Reply

− four = 2