কম খরচে নাফাখুম , আমিয়াখুম এর প্লান

1

আমিয়াখুম , নাফাখুম এর নাম শুনলেই অনেকের রোমান্টিসিজম বেড়ে যায়, রেমাক্রি খালের এই দুই জায়গা যেতে চায়না এমন লোকের সংখ্যা খুবই কম , আর যেতে আগ্রহী দের মধ্যে ছাত্র ভাই দের সংখ্যাই বেশি, গাইড খরচ, নৌকা, চান্দের গাড়ির মাত্রাতিরিক্ত ভাড়ার কারনে দেখা যায় খরচ বেড়ে ৫০০০-৬০০০ হয়ে যায়, তাই অনেকেই ইচ্ছা থাকা সত্বেও এই জায়গাগুলাই যেতে পারেনা। তাছাড়া সামনে আসছে ঈদ , অনেকেই সেখানে যেতে চাইবে, তাই যারা কম খরচে নাফাখুম , আমিয়াখুম ঘুরে আসতে চান তাদের জন্য আমার এই অল্প খরচে নাফাখুম ,আমিয়াখুম ঘুরে আসার প্লান। এই প্লান কারো কাজে আসলে আমার কষ্ট টা স্বার্থক হবে।
আমাদের প্লান টা ১০ জনের গ্রুপ এর জন্য , লোক কম হলে খরচ বেড়ে যাবে সেই অনুপাতে আবার লোক বেশি হলে খরচ কমে যাবে সেই অনুপাতে।
আমার সম্পুর্ন প্লান টা দেয়া হলঃ
১ম রাতঃ ঢাকা থেকে নন এসি বাসে করে বান্দরবানের উদ্দেশ্যে রওনা, খরচ ৬২০ টাকা।
১ম দিনঃ সকাল বেলায় বান্দরবানে নেমে নাস্তা করা, পরটা, ডিম ভাজি, ডাল, সাথে চা, হাইয়েষ্ট খরচ ৭৫ টাকা।
নাস্তা করেই চলে যাবেন থানচি বাস স্ট্যান্ডে , অটো করে ৫ জন যেতে পারবেন অটো তে , ১০ টাকা করে নিবে। থানচি বাস স্ট্যান্ড থেকে সকাল ৮ টার প্রথম গাড়িতে উঠবেন, ভাড়া নিবে ২০০ টাকা।
আগে থেকেই গাইড ঠিক করে রাখবেন, থানচি যেতে ৪ঃ৩০ ঘণ্টার মত সময় লাগবে, থানচি গিয়েই গাইডের সাথে দেখা করবেন। এর পর দুপুরের খাবার সেখানে খেয়ে, থানা, বিজিবি ক্যাম্পের প্রক্রিয়া সেরে পদ্ম ঝিরি উদ্দেশ্যে নৌকা ভাড়া করবেন। নৌকা ভাড়া নিবে হাইয়েষ্ট ১২০০ টাকা ( ৮০০-১০০০ ও হতে পারে)। এক নৌকায় ৫ জন উঠবেন। পার হেড ২৪০ টাকা হচ্ছে।
পদ্মঝিরি তে নেমে থুইসাপাড়ার উদ্দেশ্যে হাটা শুরু করবেন, ৬-৮ ঘণ্টা লাগবে থুইসাপাড়ায় পৌছাতে, সেখানে পৌছে কোন উপজাতীয় এর ঘরে উঠবেন, গাইড কে বলবেন রান্না করতে, সে রান্না করলে রাতের বেলায় খেয়ে ঘুমিয়ে পড়বেন।
২য় দিনঃ ভোরবেলায় উঠবেন, উঠে আপনার গাইড থুইসাপাড়া থেকে গাইড ঠিক করে দিবে, তাকে বলে নিবেন সে যেন ভেলা করে সাতভাইখুম, ভেলাখুম ঘুরিয়ে নিয়ে আসে। তারপর আমিয়াখুম চলে যাবেন , আমিয়াহুম, সাতভাইখুম, ভেলাখুম ঘুরে সন্ধ্যার আগেই চলে আসবেন থুইসাপাড়ায়। এ রাতও থুইসাপড়ায় রয়ে গেলেন।
৩য় দিনঃ এ দিন শুরু করবেন বেশ সকাল বেলায়, ৬ টার মধ্যে অবশ্যই রওনা দিবেন, রওনা দিবেন রেমাক্রি উদ্দেশ্যে , সকালে হাল্কা নাস্তা করেই হাটা শুরু করবেন, রাস্তা খুবই সহজ, রেমাক্রি খাল ধরে সমান রাস্তায় ৪ ঘন্টার মত হাটলেই পৌছে যাবেন নাফাখুম, সেখান ১ ঘণ্টা আনন্দ করেন, আবার হাটা শুরু করবেন রেমাক্রি উদ্দেশ্যে, ২ ঘন্তার মত হাটলেই পৌছে যাবেন রেমাক্রি, সেখান থেকে নোকা করে চলে আসবেন থানচি। নৌকা ভাড়া ২৫০০-৩০০০ টাকা, ৫ জন উঠবেন।
থানচি থেকে লাস্ট বাস ২ টায় , তাই বিষয় টা মাথায় রাখবেন, থানচি পৌছে দুপুরের নাস্তা করে বাসে উঠে পড়বেন। ২০০ টাকা ভাড়া নিবে, সেই বাস সন্ধ্যা ৭ টার মধ্যে আশা করি বান্দরবান চলে আসবে, সেখান থেকে রাতের খাবার খেয়ে ঢাকার বাসে উঠবেন, ভাড়া ৬২০ টাকা।
এই হল ঢাকা টু ঢাকা প্লান।
খরচের হিসাবঃ
১। ঢাকা টু বান্দরবান নন এসি বাস– ৬২০ টাকা
২।টোটাল ৯ বেলা খাবার ( গাইড মাস্ট রান্না করবে, পাড়ায় থাকাকালীন সময়ে চাল, সবজি, মুরগি পাড়া থেকে কিনবেন, মশলা নিজেরা আগেই কিনে নিয়ে যাবেন)- ৯*১০০=৯০০ টাকা ম্যাক্সিমাম
৩।বান্দরবান টু থানচি বাস ভাড়া=২০০ টাকা
৪।গাইড=৭০০০ টাকা, ১০ জন হলে প্রত্যেকে ৭০০ টাকা
৫।থানচি টু পদ্মঝিরি নৌকা ভাড়া- ১২০০ টাকা পার নৌকা, ৫ জন করে এক নৌকায় হলে পার হেড ২৪০ টাকা।
৬।থুইসাপাড়ায় দুই রাত থাকা=২*১০০=২০০ টাকা
৭।রেমাক্রি টু থানচি নৌকা ভাড়া=৩০০০/৫=৬০০ টাকা
৮।থানচি টু বান্দরবান বাস ভাড়া=২০০ টাকা।
৯।বান্দরবান টু ঢাকা বাস ভাড়া=৬২০ টাকা
তাহলে টোটাল খরচ হচ্ছে
৬২০+৯০০+১০+২০০+৭০০+২৪০+২০০+৬০০+২০০+৬২০=৪২৯০ টাকা।
( থুইসাপাড়ার গাইড এর খরচ, ভেলা বানানোর খরচ থানচির গাইড দিবে, খাওয়ার খরচ আরো কমানো সম্ভব)

লিখেছেনঃ Abu Bakar Siddique

Share.

1 Comment

Leave A Reply

− three = 6