ও মন জানোনা, তোমার ঘরে বসত করে কয়জনা

0

প্রাণ থাকলে প্রানী হওয়া যায়, কিন্তু মন না থাকলে মানুষ হওয়া যায় না। আমরা মানুষ হয়েছি আমাদের মন, আমাদের চিন্তা করার শক্তি আর আবেগের জন্যেই। বর্তমানে একটি বিষয় বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে পেয়েছেন, মানুষের শরীরের পুরোটাই মানবীয় নয়। একটি দেহের ৪৩ ভাগ মানবীয়, আর ৫৭ ভাগ বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া এবং অণুজীব দ্বারা গঠিত।  তাহলে কীভাবে একজন মানুষ সুস্থ স্বাভাবিক জীবনযাপন করবে!

একটি ধারনা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে যে মানুষের শরীরের অভ্যন্তরে যেসব ব্যাকটেরিয়া বা অণুজীবগুলোর বাস, বিশেষ করে অন্ত্রে–মস্তিষ্ককে পরিচালনায় সে সবের একধরনের অদৃশ্য হাত রয়েছে। বিজ্ঞান এখনো জানার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যে, কিভাবে আমাদের ভেতরে এতসব কোটি কোটি অণুজীব বাস করছে এবং সেই সাথে কিভাবে তারা শারীরিক অবস্থাকে প্রভাবিত করে।

মানুষ সাধারণত নিজেকে নিয়ে গর্ব করে, যে সে মানুষ। আসলে বায়োলজিক্যালি সে কতটুকু মানুষ এটাই জানার বিষয়। সময় যতো পার হচ্ছে আর জানার পরিধি ততোটা বাড়ছে। পৃথিবীর বাইরেও তো মানুষের চেয়ে উচ্চ মেধা সম্পন্ন প্রাণী থাকতে পারে। যেজন্য প্রয়োজন আগে নিজেকে জানা। বর্তমানে নাসার বিজ্ঞানীরা বের হয়েছেন পৃথিবীর বাইরে মানুষের মতো কোন বুদ্ধি সম্পন্ন প্রাণীর বসবাস আছে কি না সেটা জানার জন্য। তারা ধারণা করছেন পেয়েও যাবেন।

অভ্যন্তরে বাস করা সবধরনের অণুজীবকে বলা হয়ে থাকে ‘মাইক্রোবায়োম’। গবেষকরা অন্ত্রের ‘মাইক্রোবায়োম’-এর সাথে পারকিনসন্স রোগীর মস্তিষ্কের একধরনের যোগসূত্র দেখেছেন। যার কারণে মস্তিষ্কের কোষগুলো নষ্ট হয়ে যায়, ফলে পেশীগুলোর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। কিন্তু ক্যালটেকের মেডিকেল মাইক্রো বায়োলজিস্ট প্রফেসর সার্কিস ম্যাজমানিয়ান দেখিয়েছেন যে, এখানে অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়াও একভাবে জড়িত। তিনি তার গবেষণায় ‘মাইক্রোবায়োম’-এর খুব সুনির্দিষ্ট পার্থক্য পেয়েছেন পারকিনসন্স রোগী এবং সুস্থ ব্যক্তির মাঝে। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার ড. ক্রিস্টিন টিলিশ মনে করেন এ সম্ভাবনা নিয়ে আরো অনেক বেশী গবেষণার প্রয়োজন।  (বিবিসি)

Share.

Leave A Reply

seven × = thirty five