এরিস্টটলের জীবন ও সংগীত একই সুতোয় বাঁধা

0

খ্রিস্টপূর্ব ৩৮৪ অব্দে মেসিডোনিয়ার স্ট্যাগিরা নামক স্থানে জন্ম নেন দার্শনিক। বাবা নিকোমেকাস ছিলেন মেসিডোনিয়ার রাজ দরবারের চিকিৎসক। সে সূত্রে প্রায় ১৮ বছরই বাবার আদর্শে লালিত হয়েছিলেন এরিস্টটল।

রাজ দরবারের বিভিন্ন অনিয়ম পীড়া দিতো এরিস্টটলকে। তাই ১৮ বছর বয়সে প্লেটোর সান্নিধ্যে চলে যান সদূর গ্রিসের এথেন্সে। সেখানে প্রায় বিশ বছর প্লেটোর একাডেমিতে শিক্ষা লাভ করেন। নিয়ে নেন মহামতি শিক্ষক সক্রেটিসের আদর্শে আদর্শবান ছাত্র প্লেটোর সাহচর্য। কিন্তু সকল বিষয়ে শিক্ষক প্লেটোর সাথে একমত হতে পারেননি এরিস্টটল। তাই প্লেটোর মৃত্যুর সাথে সাথেই তিনি এশিয়া মাইনরে চলে যান। সেখানে তিনি সামদ্রীক প্রাণী নিয়ে গবেষণা করেন। পরবর্তীতে তিনি আলেকজেন্ডারের গৃহশিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন।

খ্রিস্টপূর্ব ৩৩৫ অব্দে আবার তাঁর জন্ম স্থান মেসিডোনিয়ার স্ট্যাগিরায় চলে আসেন। সেখানে তিনি তাঁর আদর্শিক স্কুল ‘লাইসিয়াম’ প্রতিষ্ঠা করেন। সাথে সাথে গবেষণা করেন সমসাময়িক জ্ঞান, বিজ্ঞান ও রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয়ে। সংগীতেও তাঁর ছিলো বিশেষ অবদান। তিনি সবসময় সংগীতের ইতিবাচক দিক নিয়ে আলোচনা করতেন।

এরিস্টটল মনে করতেন, নিশ্চয়ই সংগীত মানুষের বুদ্ধি ও সংস্কৃতি সম্পন্ন জীবনযাপনে সবচেয়ে বেশি অবদান রয়েছে। সংগীতের সুর ও ছন্দের সাথে মানুষের বাস্তব জীবনের গভীর মিল রয়েছে। যেমনটি ফুটে ওঠে মানুষের ইতিবাচক ও নেতিবাচক আচরণের মধ্য দিয়ে। ওটা সংগীত নয়, যেটা সংগীত প্রেমীদের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

সুতরাং এরিস্টটল মনে করেন, মানুষের জীবন ও সংগীত একই সুতোয় বাঁধা। আর শিক্ষা হলো আচরণ গঠনের পথ নির্দেশক।

Share.

Leave A Reply

× four = thirty two