একজন সংগ্রামী হাসিনার গল্প

0

তামান্না কাওসার।।

সারাদিন অপেক্ষা করেও যখন টিকেট পেলাম না তখন খুব খারাপ লাগছিল। অনেকদিন থেকে অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিলাম ডকু-ফিল্মটি দেখার জন্য। দিন শেষে সন্ধ্যায় মধুমিতা হলের সামনে দাঁড়িয়ে ভিড় ঠেলে যখন টিকেটটা হাতে পেলাম তখন একধরনের প্রশান্তি নেমে আসলো মনে। ৬ টা ৪৫ মিনিটে আমি দেখতে যাচ্ছি এমন একজন ব্যক্তির জীবনকাহিনী ও জীবনসংগ্রামের কথা নিয়ে তৈরি ডকু-ফিল্ম যিনি  বাংলাদেশের স্বাধীনতার জনক শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা। তাঁকে নিয়ে এই ডকু-ফিল্ম “হাসিনা : অ্যা ডটার্স টেল”।

ডকু-ফিল্মটি বিষয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে। ডকু-ফিল্মটি বর্ণনা করেছেন শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানা। ফিল্মটিতে উঠে এসেছে ১৯৭৫ সালে বাবা-মা ও পরিবারের অন্যসকল সদস্যদের হারানোর পর দেশের বাইরে থাকার ফলে বেঁচে থাকা দুই বোন শেখ হাসিনা ও শেখ  রেহানার বেঁচে থাকার সংগ্রামের কথা,প্রবাসি জীবনে সংগ্রামের কথা,জানা অজানা অনেক কথা।

দুই বছরের গবেষণা ও তিন বছরের নিরলস প্রচেষ্টায় ৭০ মিনিটের এই ডকু-ফিল্মটি নভেম্বর মাসের ১৬ তারিখ প্রাথমিকভাবে দেশের চারটি  সিনেমা হলে মুক্তি পায়। এটি পরিচালনা করেছেন পিপলু খান। ডকু-ফিল্মটি রাজধানীর স্টার সিনেপ্লেক্স, ব্লকবাস্টার সিনেমা, মধুমিতা এবং চট্টগ্রামের সিলভার স্ক্রীন হলে দেখানো হচ্ছে। শেখ হাসিনা থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর বাবার খুব প্রিয় গান “আমার সাধ না মিটিল আশা না পুরিল………” যখন সম্পূর্ণ  ডকু-ফিল্মটিতে বাজতে থাকে তখন এক ধরনের কষ্ট অনুভব হয়।   আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পারিবারিক জীবনে ছিলেন খুব সাধারণ। গান শোনা আর বই পড়াই ছিল শেখ হাসিনার প্রিয় কাজ। বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে কোন শাড়িটা তিনি পরবেন তাও নাকি মা ঠিক করে  দিতেন। ডকু-ফিল্মটির একটা সময় গিয়ে শেখ রেহানা বলেন, “বাংলাদেশের বাঙ্গালিরা আমার বাবাকে মারবে, এটা আমাদের ধারনারও বাইরে ছিল”। আজও দুঃস্বপ্নের মতো মনে হয় দুই বোনের কাছে। প্রচণ্ড কষ্ট আর অপরাধীদের শাস্তির দাবিতে তাঁর সংগ্রাম। বাবার অসম্পূর্ণ স্বপ্ন পূরণ করতে দেশকে নিয়ে স্বপ্ন ভরা মনে পাশে আছেন আমাদের অভিভাবক হয়ে।  কখন শেষ হলো ডকু-ফিল্মটি বুঝতেই পারিনি। গুনগুন করে গাইতে গাইতে হল থেকে বের হলাম “আমার সাধ না মিটিল আশা না পুরিল,সকলই ফুরায়ে যায় মা……” ।

Share.

Leave A Reply

eighty nine − = eighty six