ঈদে কীভাবে খাবেন, কতটুকু খাবেন

0

সারা মাস রোজা রেখে অনেক কষ্ট করেছেন। অনেক সংযম অভ্যাস করেছেন, কম খেয়েছেন। ঈদে মজার মজার রান্না হবে তাই অবশ্যই খাবেন। কিন্তু খাবেন পরিমিত পরিমানে, ক্যালরি মেপে এবং আপনার শারীরিক চাহিদা অনুযায়ী। একবারে বেশি খেলে সেটা হজম না হয়ে আপনার শরীরে চর্বি হয়ে জমা হবে। ফলে ওজন বাড়বে। তাই বারে বারে খাবেন, কম ক্যালরি যুক্ত খাবার।

কখনো-ই খুব বেশি ক্ষুধার্ত অবস্থায় থাকবেন না। বারে বারে খেলে কম খাওয়া হবে, বেশি ক্ষুধার্ত হয়ে খেলে বেশি খাওয়া হবে।

— একবারে বেশি না খেয়ে portion control করুন, একটু ক্ষুধা রেখে খান। তারপর দুই থেকে তিন ঘন্টা পরে আবার খান।

— বারে বারে কিন্তু পোলাও কোর্মা খাবেন না। অথবা বেশি গুরুপাক বা শাহী খাবার খাবেন না। যেমন সকালে যদি সাধারণ নাস্তা খান, দুপুরে রিচ ফুড খেলেন অল্প , বিকালে আবার কম খেলেন, যেমন: চা,বিস্কিট, ফল ইত্যাদি। রাতে কিন্তু কম খাবেন, যেমন: ভাতের বদলে রুটি,সবজি বা সবজির সুপ ও মাছ ইত্যাদি। এভাবে খাবার গুলো ব্যালান্স করবেন।

— সকালের নাস্তা, সকালে ও বিকালে দুইবেলা হালকা খাবার, দুপুরের খাবার, রাতের খাবার সবই ঠিক মত খাবেন।

— প্রতিদিন রিচ ফুড খাবেন না, ঈদের দিন বা তারপর দিন খেলেন, তারপরের দিন না খাওয়াই ভালো।

— যদি সুস্থ্য থাকতে চান, তাহলে কোন খাবারটা খাবেন আর কোনটা খাবেন না তা আপনাকেই বেছে নিতে হবে। প্রতিদিন যেহেতু সব গ্রুপের খাবার শর্করা, আমিষ, ভিটামিন, ফ্যাট, মিনারেল, দুধ ইত্যাদি আমাদের দরকার, তাই খাবার টা সেভাবেই বুঝে শুনে খান।

— তেলে ভাজা, বেশি তেল মশলা দিয়ে রান্না করা গুরুপাক খাবার, মিষ্টি খাবার এড়িয়ে চলুন, এতে বদহজম তো হবেই, রোজ রোজ খেলে ওজন বেড়ে, ডায়াবেটিস বেড়ে যেতে পারে।

— কাবাব, গ্রিল করা খাবার, সালাদ, ফল, রুটি ইত্যাদি রাখবেন আপনার খাবারের মেন্যুতে। প্রয়োজনে সালাদ, ফল, সবজি খেয়ে পেট ভরান।

— আপনার বাড়িতে যিনি রান্না করেন, উনাকে বলুন তেলে ভাজা,বেশি তেল ও মশলা যুক্ত খাবার না রাধতে।

— দাওয়াতে গেলে বেশি বেশি খাবেন না, একবার নিন, দুই বার নিবেন না। বেশি চাপা চাপি করলে ভদ্রভাবে না বলুন এবং ভাত জাতীয় খবর কম খান। মিষ্টি খাবার না খেয়ে ফল খেতে পারেন। অল্প পরিমানে মিষ্টি খেতে পারেন।

— দাওয়াতে গেলে খাবার দিকে মনোযোগ না দিয়ে প্রয়োজনে গল্প করা ও সবার সাথে কুশল বিনিময় করার দিকে মনোযোগ দিন। খেতে খেতে মরে যাব বা খাওয়ার জন্য দাওয়াত এ যাব এই চিন্তা যেন মনে না আসে।

— খাওয়ার পরে টক দই খেলে ভালো হজম হয়, বোরহানিও হজমে সহায়ক।

— পানীয় হিসাবে কোমল পানীয় না খেয়ে ডাবের পানি, বোরহানি, লেবুর শরবত খান।

— লেবু চর্বি দূর করার জন্য খুবই ভালো কাজ করে। সকালে উঠে হালকা গরম পানিতে একটু লেবু চিপে খেলে সারাদিন সেটা আপনাকে চর্বি দূর করতে সাহায্য করবে।

— লাগাতার দাওয়াত থাকলে যেই বেলা দাওয়াত থাকবে না সেই বেলা অন্য রকম খান: রুটি, সবজি বা সবজির সুপ, সালাদ, মাছ ইত্যাদি। এতে আপনার খাওয়া দাওয়ার সমতা বজায় থাকবে, বদহজম হবে না।

— দাওয়াত এ যাবার আগে বাসা থেকে হালকা খাবার খেয়ে নিন, যেমন: ফল বা সালাদ, পানি। তাহলে আর বেশি খেতে ইচ্ছা করবে না

— পর পর অনেক বাসায় বেড়াতে গেলে সব বাসায় এক চামচ করে খান বা খুব অল্প পরিমানে খান। কম ক্যালরি যুক্ত খাবার বা ফল খান।

— আরেকটি ভালো উপায় হচ্ছে পানি। পানির অনেক গুন: পানি হজমে সহায়ক, যেকোনো খাবার-ই বেশি পানি তে হজম হয়ে যাবে। গুরুপাক খাবার খেলে তাই অনেক অনেক পানি খাবেন, খারাপ লাগবে না। বেশি বেশি পানি আপনার ত্বকের জন্য ও ভালো। ঈদের তিন দিন আগে থেকে অনেক পানি খান, ঈদের মৌসুমে আপনেক অনেক সজীব দেখাবে। কমপক্ষে ৮ গ্লাস পানি বাড়িয়ে ১২/১৪ গ্লাস করুন। খাওয়ার আগে পানি খেয়ে নিন, দেখবেন আর বেশি খেতে ইচ্ছা করবে না।

— রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস হালকা গরম দুধ খেতে ভুলবেন না।

ঈদ এর সময় যাতে ওজন না বাড়ে বা সুস্থ্য থাকা যায়, সে জন্য আপনাকেই সচেতন হতে হবে। আপনার স্বাস্থ্য আপনারই হাতে। নিজেকে বোঝান আপনি কি বেশি খেয়ে ওজন বাড়াবেন? নাকি কম খেয়ে স্লিম, সুস্থ্য থাকবেন। যারা ওজন বাড়াতে চান, তাদের জন্য তো ঈদ মজার সময়। কিন্তু অতিরিক্ত বেশি খেয়ে পেট এর সমস্যা করবেন না। রাসুলুল্লাহ (স:) এর শিক্ষা কিন্তু পরিমিত খাওয়া। আমাদেরও তাই মেনে চলা উচিত।

Share.

Leave A Reply

two ÷ = two