আবৃত্তিতে মুগ্ধতা ছড়ালো ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা

0

কণ্ঠে কখনও আনন্দ, কখনও কষ্টমাখা শব্দ। কখনও ক্ষোভ আবার কখনও আক্ষেপ। কখনও মনুষ্যত্বহীনতার প্রতি ভ্রূক্ষেপ , কখনও টিকে থাকার লড়াইয়ের সংগ্রামী সুর।

সোমবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর কলাবাগানে স্কলারস ইন মিলনায়তনে  স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের অসাধারণ কবিতা আবৃত্তির মুগ্ধতায় ছিল এমনই পরিবেশ। কবিতার আবেদন স্পর্শ করে গেছে উপস্থিত শ্রোতাদের হৃদয়। মিলনায়তন জুড়ে ছিল অদ্ভুত স্বর্গীয় আবেশ। আর সেই পরিবেশে এসে যেন ঘুরে গেছেন রবীন্দ্রনাথ, রবার্ট ফ্রস্ট ও রবার্ট ব্রাউনিং। নির্মলেন্দু গুণের কবিতা বাড়িয়ে দিয়েছে সেই মুগ্ধতা।

মূলত আয়োজনটি ছিল কবিতা পাঠ প্রতিযোগিতা। দুপুরে সাড়ে ১২টার দিকে ইংরেজি বিভাগের ইংলিশ ল্যাাঙ্গুয়েজ ক্লাবের উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাঈদ সালাম। উপস্থিত ছিলেন ইংরেজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শাহীন মাহবুবা কবির, পাবলিক হেলথ বিভাগের প্রধান ড. নওজিয়া ইয়াসমিন, বিজনেস্ট স্টাডিজ বিভাগের প্রধান প্রফেসর কামরুজ্জামানসহ বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা। বক্তব্য প্রদানের জন্য আমন্ত্রণ, বিজয়ীর নাম ঘোষণাসহ সার্বিক সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আফরোজা আজিজ সূচনা।

উপাচার্য সাঈদ সালাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের করতে হলে অবশ্যই ইংরেজির কোনো বিকল্প নেই। তাই  বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে এ ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।’

সবাইকে অনুষ্ঠানে স্বাগত জানিয়ে ইংরেজি বিভাগের প্রধান শাহীন মাহবুবা কবীর বলেন, ‘আশা করি, আমাদের এ আয়োজন আপনাদের সবাইকে আনন্দ দেবে।’

এরপর শুরু হয় মূল প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতা বাংলা ও ইংরেজি কবিতা-এ দুইভাগে ভাগ করা হয়। এতে মোট ২২ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। একেক প্রতিযোগী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘দুই বিঘা জমি’, নির্মলেন্দু গুণের ‘মানুষ’, রবার্ট ফ্রস্টের ‘মেন্ডিং ওয়াল’ ও রবার্ট ব্রাউনিংয়ের ‘দি প্যাট্রিয়ট’ কবিতা আবৃত্তি করেন। বিচারক হিসেবে ছিলেন ছিলেন ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নাজিয়া হোসেন, বিজনেস স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নিপা সাহা এবং জার্নালিজম, কমিউনিকেশন এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের সিনিয়র লেকচারার ও সমন্বয়ক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর কাজী আনিছ। প্রতিযোগিতার পর্বটি সঞ্চালনা করেন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী নয়ন সাঈদ জীবন ও আইভি বাশার সিনথিয়া।

প্রতিযোগিতা শেষে বক্তব্যে পাবলিক হেলথ বিভাগের প্রধান নওজিয়া ইয়াসমিন বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদেরকে লেখাপড়ার প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলবে। তাদেরকে উৎসাহিত করবে।’ এ ধরনের আয়োজনের জন্য তিনি ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানান।

সহকারী অধ্যাপক নাজিয়া হোসেন বলেন, ‘কবিতার গতিবিধি খেয়াল করেই কবিতা আবৃত্তি করতে হবে। প্রত্যেক কবিতার আলাদা ধরন থাকে, দিক থাকে। আবৃত্তির সময় এ বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে।’

সহকারী অধ্যাপক নিপা সাহা বলেন, ‘শুধু ইংরেজি বিভাগ নয়, আমরা চাই, ভবিষ্যতে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হোক।’

সিনিয়র লেকচারার কাজী আনিছ বলেন, ‘কবিতা হচ্ছে মানুষের হৃদয়ের ভাষা, প্রকৃতির ভাষা। এ ভাষায় কথা বলা মানে নিজের সঙ্গে নিজেই কথা বলা। কবিতা নিজেকে আরও উপলব্ধি করার পথ বাতলে দেয়।’

বক্তব্যের পর নিপা সাহা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘কেউ কথা রাখেনি’ এবং কাজী আনিছ স্বরচিত কবিতা ‘প্রেমিকা’ আবৃত্তি করেন।

বক্তব্যের পর বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। বাংলা কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছেন মৌমিতা ইসলাম, দ্বিতীয় নুর-এ-জান্নাত ডরথী ও তৃতীয় ঋষিতা চাকমা। ইংরেজি কবিতা আবৃত্তি কবিতায় প্রথম হয়েছেন মহসিনা আক্তার, যৌথভাবে দ্বিতীয়  তানসিম সরোয়ার ও মুস্তারিন সুলতানা এবং তৃতীয় হয়েছেন জারমিন সামদানি।

পরে উপাচার্য অধ্যাপক সাইদ সালাম, অধ্যাপক শাহীন মাহবুবা কবির এবং অধ্যাপক নওজিয়া ইয়াসমিন বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। পুরস্কার হিসেবে ছিল ক্রেস্ট, বই ও সনদ।

Share.

Leave A Reply

× seven = 21