অস্তিত্ব রক্ষার শেষ লড়াইয়ে চীনের গুহাবাসীরা

0

নতুন কিছু ডেস্ক।। 

চীনে বিশৃঙ্খলার সময় চিনের মিয়াও গ্রামের মানুষেরা লুকিয়ে ছিলেন এখানেই এই গুহায়৷ তখনও আধুনিক চীন গড়ে ওঠেনি৷ চিনের দক্ষিণ পশ্চিমের গুইঝাউয়ের তখন সশস্ত্র দুস্কৃতিদের তাণ্ডব চলছে৷ সেই সময়ে একমাত্র লুকিয়ে থাকার জায়গা হিসেবে মিয়াও অধিবাসীরা বেছে নেন এই গুহাকেই৷

তার পর থেকে এখানেই স্থায়ী ভাবে বসবাসও শুরু করেন তাঁরা ৷ এরপর চিনে ক্ষমতায় আসে কমিউনিস্ট পার্টি৷ দিন দিন এই জায়গায় থেকে দারিদ্র এবং বিচ্ছিন্নতা গ্রাস করতে থাকে তবু তাঁরা থেকে যান এখানেই ৷ দিন বদলাতে থাকে ৷ চিন উন্নত হয় আগের থেকে অনেক বেশি ৷ কিন্তু স্থান বদল করেননি এই এলাকার বাসিন্দারা ৷ শহর থেকে অনেক দূরে এভাবেই থেকে যান সকলে ৷

এখন গোটা চীন দেশে এই এলাকাটিই একমাত্র দরিদ্র এলাকা বলে পরিচিত৷ বিশ্বের থেকে বাইরে থাকার মত থাকেন এই এলাকার বাসিন্দারা ৷ একটা পাহাড় পেরিয়ে খাড়া উপত্যকার পথ অতিক্রম করে তবেই রাস্তার দেখা মেলে ৷ যে রাস্তা নিয়ে যায় শহরের দিকে ৷

বিগত কুড়ি বছর ধরে এই ভাবেই জীবন কাটাচ্ছেন এখানকার দরিদ্র বাসিন্দারা ৷ এখানে পর্যটকদের ভিড়ও সেভাবে হয়না৷ আগে যাও বা পর্যটকরা বেড়াতে আসত সে সংখ্যা দিন দিন তলানিতে ঠেকছে ৷ চিনের সংবাদ মাধ্যমগুলি প্রচার করে এই গুহাটিই চিনের সর্বশেষ ক্রান্তীয় বাসিন্দাদের গুহা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রয়ে গিয়েছে ৷ সেসব শুনে এখন আবার পর্যটকরা আসছেন শেষ হতে বসা সেই ইতিহাসকে একটু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখতে ৷

একটি কটেজ ইন্ডাস্ট্রি তৈরি হয়েছে ৷ গুহার বাসিন্দারা কিছু টাকা আয় করতে পারেন এর ফলে৷ তাঁদের বাড়ির কয়েকটা ঘর ভাড়া দিয়ে ৷ ঝং গুহায় মানুষ এভাবেই আয় করেন গ্রামের মানুষেরা ৷ চুনা পাথরের এই গুহা এতটাই বড় যে তার মধ্যে চারটি আমেরিকার ফুটবল মাঠ এঁটে যাবে ৷ হ্যাঙারের মত দেখতে এই গুহা৷ গুহার তলায় বাসিন্দাদের বাঁশের তৈরি ঘর গুলি গুহার দেওয়াল ঘেঁষে তৈরি ৷ যা ওপর থেকে দেখলে খুবই ক্ষুদে মনে হয়৷ এভাবেই বছরের পর বছর রয়েছে ভূগর্ভস্থ গ্রাম গুলি ৷ টিকিয়ে রেখেছে তাদের অস্তিত্ব ৷ লড়াই চলছে৷

সূত্র-কোলকাতা২৪\৭

Share.

Leave A Reply

10 × one =